খাগড়াছড়িতে বিজয়া দশমীতে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
- আপডেট: ০৭:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
- / ৪৬

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ ও আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে খাগড়াছড়িতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে পাঁচ দিনব্যাপী এ শারদীয় মহোৎসবের। জেলা সদরের চেঙ্গী নদী ও খাগড়াপুর এলাকার পুকুরসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্গা বিসর্জন দেয়া হয়।
সকাল থেকেই জেলা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ছিল ভক্তদের ভিড় ও আনন্দের রঙিন আবহ। খাগড়াপুর দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শ্রী শ্রী লক্ষ্মী-নারায়ণ মন্দির, শান্তিনগর গীতা আশ্রম ও আনন্দনগরসহ শহরের প্রায় সব পূজামণ্ডপেই অনুষ্ঠিত হয় শেষ দিনের পূজা, দর্পণ বিসর্জন ও বিশেষ প্রার্থনা।
দেবীর বিদায়ে ভক্তদের চোখে জল, মনে শান্তির আহ্বান
হিন্দু শাস্ত্রমতে, বিজয়া দশমীর দিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক থেকে কৈলাসে ফিরে যান দোলায় চড়ে। এ বিদায় যতটা বেদনার, ততটাই আশাবাদীও — কারণ এটি কেবল দেবীর বিদায় নয়, মানুষের মনে থাকা অসুরিক প্রবৃত্তি যেমন কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসাকে বিসর্জন দেওয়ার প্রতীক। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই দিনটিতে এসব প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে একে অপরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারই বিজয়ার মূল বার্তা।
সিঁদুর খেলায় রাঙা হয়ে উঠলো পূজামণ্ডপ
দেবীর বিদায়ের আগে নারীদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা উৎসবে যোগ করে অন্য মাত্রা। দেবীর চরণ থেকে নেওয়া সিঁদুর নিজেদের সিঁথিতে ও একে অপরের কপালে ছুঁইয়ে নারীরা প্রার্থনা করেন স্বামী ও পরিবারের মঙ্গল কামনায়। পান ও মিষ্টি নিবেদন শেষে দেবীকে সিঁদুর স্পর্শ করিয়ে শুরু হয় আনন্দঘন এই উৎসব। রঙিন আবেশে মেতে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো।
শোভাযাত্রায় প্রতিমা বিসর্জন, মুখরিত শহর
বিকেলে সুবিধামতো সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বিজয়ার মূল পর্ব — শোভাযাত্রায় প্রতিমা বিসর্জন। শঙ্খধ্বনি, ঢাক-ঢোল ও উল্লাসধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে খাগড়াছড়ির রাস্তাঘাট। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সবাই মিলে দেবীর বিদায়কে বরণ করে নেন এক আনন্দঘন ও আবেগপূর্ণ পরিবেশে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আনন্দ ভাগাভাগি
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে মিলেমিশে ভাগ করে নিচ্ছে আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা। শুধু সনাতন সম্প্রদায় নয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও অংশ নিয়েছেন বিজয়ার আনন্দ ভাগাভাগিতে।
দেবী দুর্গার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রত্যাশা—অশুভ শক্তির বিনাশ, মানবিক গুণের বিকাশ এবং শান্তি ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার নিয়েই শেষ হলো খাগড়াছড়ির শারদীয় দুর্গোৎসব।
বিজয়া দশমীর বার্তা: “অসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ হওয়াই মানবধর্ম” — এই চেতনায় নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি রেখে বিদায় নিলেন দেবী দুর্গা।





















