খাগড়াছড়িতে নারী নিপীড়ন বিরোধী জুম্ম ছাত্র–জনতার মহাসমাবেশ : সেনাবাহিনী গাড়িতে হামলার চেষ্টা
- আপডেট: ১১:০০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ১০১

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারের দাবিতে খাগড়াছড়িতে জুম্ম ছাত্র–জনতার ব্যানারে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা শহরের চেঙ্গী স্কোয়ারে এ সমাবেশে অংশ নেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকালে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চেঙ্গী স্কোয়ারে এসে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, পাহাড়ি নারীরা ধারাবাহিকভাবে নিপীড়নের শিকার হলেও বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। এসময় তারা অবিলম্বে ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও পাহাড়ি নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জুম্ম ছাত্র–জনতার প্রতিনিধি কৃপায়ন ত্রিপুরা, কবিতা চাকমা ও আহ্বায়ক উক্যনু মারমা। বক্তারা বলেন, “নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যেতে আমরা বাধ্য হব।”
উত্তেজনা ও হামলার চেষ্টা
সমাবেশ চলাকালে ‘সেনাবাহিনী হটাও’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করার সময় লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলার চেষ্টা চালান তারা। এছাড়া চেঙ্গী স্কোয়ার মোড়ের সবগুলো সড়ক ব্লক করে রাখায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
মামলার অগ্রগতি
সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন জানান, “বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “একজন গ্রেপ্তার হয়েছে, বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।” বর্তমানে ভিকটিম জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সমাবেশে উক্যনু মারমা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছে। তবে জনগণের প্রতিরোধে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, “দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করলে শনিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ করা হবে। তবে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ওই দিনের পর কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে লাগাতার হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য,গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। রাত ১১টার দিকে স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেনাবাহিনীর সহায়তায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
কিশোরীর বাবা জানান, “আমার মেয়ে প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করি। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।”





















