১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২ হাজার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • /

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া বক্তব্যে এই তথ্য জানান তিনি। টানা দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে অস্থিরতা ও কঠোর দমন-পীড়নের পর ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটিই প্রথমবার বড় মৃত্যু সংখ্যার স্বীকারোক্তি।

মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য দায়ী সন্ত্রাসীরা।

তবে নিহতদের মধ্যে কারা বিক্ষোভকারী আর কারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। নির্দিষ্ট করে কোনো পক্ষকেও দোষ দেননি।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ আশির দশকে ইরানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে এখনকার অবস্থা তুলনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে গণ-মৃত্যুদণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। ইরানে চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

Please Share This Post in Your Social Media

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২ হাজার

আপডেট: ১২:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া বক্তব্যে এই তথ্য জানান তিনি। টানা দুই সপ্তাহে দেশজুড়ে অস্থিরতা ও কঠোর দমন-পীড়নের পর ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এটিই প্রথমবার বড় মৃত্যু সংখ্যার স্বীকারোক্তি।

মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য দায়ী সন্ত্রাসীরা।

তবে নিহতদের মধ্যে কারা বিক্ষোভকারী আর কারা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। নির্দিষ্ট করে কোনো পক্ষকেও দোষ দেননি।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ আশির দশকে ইরানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে এখনকার অবস্থা তুলনা করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি মোগাদ্দাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর যে গণ-মৃত্যুদণ্ড বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। ইরানে চলমান অস্থিরতা আরও তীব্র হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।