১০:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

অরাজকতার পর পুলিশের পুনর্গঠনে আইজিপি বাহারুল আলমের সক্রিয় উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৪২

স্টাফ রিপোর্টার: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হঠাৎ করেই দেশজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার সবচেয়ে বড় চাপ এসে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। জনতার ক্ষোভ, হামলা–ভাঙচুর, থানায় আগুন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটসহ মব–হিংসার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বহু পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্বস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় বাহিনী কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে।

৫ আগস্ট সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্ব হারান তৎকালীন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন; পরে মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় তিনি দণ্ডিত হন। এই শূন্যতার মধ্যে ৬ আগস্ট রাতে দায়িত্ব পেলেও কার্যকর সরকার না থাকায় ময়নুল ইসলামের পক্ষে বাহিনীকে সংগঠিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়।

৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকর করতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে কয়েক দফা মূল্যায়ন, যাচাই–বাছাই শেষে পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত হন বাহারুল আলম। অতিরিক্ত পর্যালোচনার পর ২০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি এবং ২১ নভেম্বর তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ভেঙে পড়া পুলিশকে নতুনভাবে দাঁড় করানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

গত ৫ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি জানান, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের সময় কিছু সদস্যের গর্হিত আচরণ পুরো বাহিনীকে লজ্জায় ফেলেছে। সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু পুলিশকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে। তিনি স্পষ্ট জানান—অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করছে; ভবিষ্যতে খুন, গুমসহ যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।

দীর্ঘদিন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বাহারুল আলম জাতিসংঘ মিশনেও দেশের সুনাম বাড়িয়েছেন। তার সততা নিয়ে পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বীরাও প্রশ্ন তোলেন না। দায়িত্বে না থেকেও জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার বিরল উদাহরণ স্থাপন করেন তিনি—যা পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে একটি মূল্যবান দৃষ্টান্ত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালালেও সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব অপপ্রচার উপেক্ষা করেই বাহিনীকে পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগী রয়েছেন তিনি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পুলিশের শৃঙ্খলা, জনসেবা ও সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে—যা বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে—নির্বাচন ঘিরে দেশ যখন ব্যস্ত, তখনই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশ প্রধানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য—পুলিশকে দুর্বল করে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নড়বড়ে করা। অথচ নির্বাচনকে সামনে রেখে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, বাকিদের প্রশিক্ষণ চলছে। ঠিক এমন সময়ে আইজিপিকে নিয়ে অপপ্রচার নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতার ধাক্কা অতিক্রম করে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, পেশাদার ও মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করছেন বাহারুল আলম। স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের সমন্বয়ে পুলিশের কাঠামো পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

অরাজকতার পর পুলিশের পুনর্গঠনে আইজিপি বাহারুল আলমের সক্রিয় উদ্যোগ

আপডেট: ০১:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হঠাৎ করেই দেশজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার সবচেয়ে বড় চাপ এসে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর। জনতার ক্ষোভ, হামলা–ভাঙচুর, থানায় আগুন, অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটসহ মব–হিংসার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। বহু পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্বস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় বাহিনী কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় পড়ে।

৫ আগস্ট সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গেই দায়িত্ব হারান তৎকালীন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন; পরে মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় তিনি দণ্ডিত হন। এই শূন্যতার মধ্যে ৬ আগস্ট রাতে দায়িত্ব পেলেও কার্যকর সরকার না থাকায় ময়নুল ইসলামের পক্ষে বাহিনীকে সংগঠিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়।

৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় কার্যকর করতে উদ্যোগ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে কয়েক দফা মূল্যায়ন, যাচাই–বাছাই শেষে পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে নির্বাচিত হন বাহারুল আলম। অতিরিক্ত পর্যালোচনার পর ২০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি এবং ২১ নভেম্বর তিনি আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই ভেঙে পড়া পুলিশকে নতুনভাবে দাঁড় করানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

গত ৫ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি জানান, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনের সময় কিছু সদস্যের গর্হিত আচরণ পুরো বাহিনীকে লজ্জায় ফেলেছে। সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু পুলিশকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করে। তিনি স্পষ্ট জানান—অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতার নীতি অনুসরণ করছে; ভবিষ্যতে খুন, গুমসহ যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা হবে।

দীর্ঘদিন সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বাহারুল আলম জাতিসংঘ মিশনেও দেশের সুনাম বাড়িয়েছেন। তার সততা নিয়ে পেশাগত প্রতিদ্বন্দ্বীরাও প্রশ্ন তোলেন না। দায়িত্বে না থেকেও জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার বিরল উদাহরণ স্থাপন করেন তিনি—যা পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে একটি মূল্যবান দৃষ্টান্ত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা চালালেও সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব অপপ্রচার উপেক্ষা করেই বাহিনীকে পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগী রয়েছেন তিনি। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পুলিশের শৃঙ্খলা, জনসেবা ও সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে—যা বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন।

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বলছে—নির্বাচন ঘিরে দেশ যখন ব্যস্ত, তখনই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশ প্রধানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্য—পুলিশকে দুর্বল করে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নড়বড়ে করা। অথচ নির্বাচনকে সামনে রেখে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, বাকিদের প্রশিক্ষণ চলছে। ঠিক এমন সময়ে আইজিপিকে নিয়ে অপপ্রচার নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতার ধাক্কা অতিক্রম করে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, পেশাদার ও মানুষের আস্থার প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে কাজ করছেন বাহারুল আলম। স্বচ্ছতা, মানবিকতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের সমন্বয়ে পুলিশের কাঠামো পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ দেশকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।