১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

বান্দরবান জেলায় সারজিস আলমকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / ২৪৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পার্বত্য জেলা বান্দরবান নিয়ে ‘অবমাননাকর মন্তব্য’ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেলার ছাত্র সংগঠনগুলো।

সারজিস জনসম্মুখে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বান্দরবানে তার প্রবেশ ও এনসিপির সব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তারা।

রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে বান্দরবান প্রেসক্লাবে ‘ছাত্র সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ছাত্র নেতারা।

ছাত্র নেতারা জানান, গত ৩ জুলাই, পঞ্চগড়ের ‘জুলাই পদযাত্রা’ চলাকালে এক বক্তব্যে সারজিস আলম বান্দরবানকে ‘শাস্তিস্বরূপ চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পাঠানোর জায়গা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যকে তারা চরম অবমাননাকর ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি জেলার সম্মানহানিই নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।

নেতারা জানান, এই মন্তব্যের জন্য সারজিস আলমের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হলে স্থানীয় এনসিপি নেতারা প্রতিশ্রুতি দেন যে ১৯ জুলাই বান্দরবানে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই পদযাত্রা’তে সারজিস জনসম্মুখে দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু ঐ অনুষ্ঠানে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। বরং তারা বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ছাত্র নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র সমাজের নেতা আসিফ ইসলাম বলেন,“সারজিস ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বান্দরবানে তার উপস্থিতি ও এনসিপির কার্যক্রম আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেউ যদি অবমাননা করে, আমরা রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন,“বান্দরবানকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার মানেই আমাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা। আমরা এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেব না।”

নেতারা আরও বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ‘শাস্তিস্বরূপ বদলি’ হিসেবে বান্দরবানে নিয়োজিত, তাদের দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলকে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের জন্য বরাদ্দ এলাকা হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি মাহির ইফতেখার, খালিদ বিন নজরুল, জুবায়ের ইসলাম, আসিফ ইসলামসহ আরও অনেকে।

Please Share This Post in Your Social Media

বান্দরবান জেলায় সারজিস আলমকে অবাঞ্চিত ঘোষণা

আপডেট: ১১:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পার্বত্য জেলা বান্দরবান নিয়ে ‘অবমাননাকর মন্তব্য’ করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জেলার ছাত্র সংগঠনগুলো।

সারজিস জনসম্মুখে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বান্দরবানে তার প্রবেশ ও এনসিপির সব কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তারা।

রোববার (২০ জুলাই) দুপুরে বান্দরবান প্রেসক্লাবে ‘ছাত্র সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ছাত্র নেতারা।

ছাত্র নেতারা জানান, গত ৩ জুলাই, পঞ্চগড়ের ‘জুলাই পদযাত্রা’ চলাকালে এক বক্তব্যে সারজিস আলম বান্দরবানকে ‘শাস্তিস্বরূপ চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পাঠানোর জায়গা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যকে তারা চরম অবমাননাকর ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি জেলার সম্মানহানিই নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ।

নেতারা জানান, এই মন্তব্যের জন্য সারজিস আলমের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হলে স্থানীয় এনসিপি নেতারা প্রতিশ্রুতি দেন যে ১৯ জুলাই বান্দরবানে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই পদযাত্রা’তে সারজিস জনসম্মুখে দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু ঐ অনুষ্ঠানে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। বরং তারা বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ছাত্র নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র সমাজের নেতা আসিফ ইসলাম বলেন,“সারজিস ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত বান্দরবানে তার উপস্থিতি ও এনসিপির কার্যক্রম আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেউ যদি অবমাননা করে, আমরা রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে তার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন,“বান্দরবানকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার মানেই আমাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা। আমরা এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেব না।”

নেতারা আরও বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ‘শাস্তিস্বরূপ বদলি’ হিসেবে বান্দরবানে নিয়োজিত, তাদের দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলকে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের জন্য বরাদ্দ এলাকা হিসেবে চিত্রিত করার প্রবণতা রোধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি মাহির ইফতেখার, খালিদ বিন নজরুল, জুবায়ের ইসলাম, আসিফ ইসলামসহ আরও অনেকে।