ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনকে অব্যাহতি
- আপডেট: ০৮:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / ৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিভিন্ন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষক এবং এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে চার জনকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারবিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলামকে (রফিক শাহরিয়ার) সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া, বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সভায় ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পর্যালোচনা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন এ কমিটির সদস্য থাকবেন। একই সভায় বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারের বিষয় পর্যালোচনায় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সিন্ডিকেট সভায় জুলাইয়ের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া সভায় প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।



























