পাহাড়ি সুরের মিলনমেলা: খাগড়াছড়িতে চার জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের নিয়ে মিউজিক ক্যাম্প শুরু
- আপডেট: ১০:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
- / ১২

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় সুর, তাল ও সৃজনশীলতার মিলনে খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক মিউজিক ক্যাম্প। ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ক্যাম্প যেন হয়ে উঠেছে পাহাড়ি সংগীতের এক অনন্য মিলনমেলা।
বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মিউজিক ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যো হ্লা মং।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব সংগীতধারা, বাদ্যযন্ত্র ও সুরের ঐতিহ্য। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই মিউজিক ক্যাম্প পাহাড়ি সংগীতের বিকাশ ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করেন অনুশীলন ও কর্মশালায়। এতে একদিকে যেমন লোকসংগীতের চর্চা হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
এই মিউজিক ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছেন মোট ৬৯ জন গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পী। তারা ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা ও সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নিজস্ব লোকসংগীত, সুর ও বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি যৌথভাবে নতুন সংগীত সৃষ্টির উদ্যোগও নেবেন। কর্মশালার মাধ্যমে সংগীতের কথা, সুর, পরিবেশন কৌশল ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের।
আয়োজকরা জানান, এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সংগীত সংরক্ষণ ও প্রচার করা, তরুণ শিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির শিল্পীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। পাশাপাশি এই আয়োজন থেকে নতুন নতুন গান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে পাহাড়ি সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা, জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রুমানা আক্তার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উষানু চৌধুরী, কালচারাল কর্মকর্তা নাহিদ নাজিয়াসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও সংগীতপ্রেমীরা।
পাহাড়ের চার জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এই মিউজিক ক্যাম্প খাগড়াছড়ির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে পাহাড়ি সংগীতের বৈচিত্র্য দেশব্যাপী আরও বিস্তৃতভাবে পরিচিতি লাভ করবে।





















