০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ঝিকরগাছায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন: আপন ফুফাতো ভাই নয়ন গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
  • / ১১৩

সাব্বির হোসেন, ঝিকরগাছা যশোরঃ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়া গ্রামে দশ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার আপন ফুফাতো ভাই নয়নকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

জানা গেছে, নিহত শিশুটি স্থানীয় বায়সা এবতেদায়ী দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৭ জুন সকালে সে তার ছোট ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। একই দিন দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কিন্তু কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরদিন ৮ জুন সকাল ৬টায় শিশুটির মৃতদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ভেসে থাকতে দেখা যায়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শিশুটির ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন ও মুখে রক্ত দেখা যায়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান নির্দেশনা দিলে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরে ১১ জুন সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে হাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন নয়নকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন জানায়, ঘটনার দিন তার মামাতো ভাইকে মামা বাড়ি দিয়ে ফিরে এসে দেখে তার ছোট বোন ঘুমাচ্ছে আর ভিকটিম বাইরে দোলনায় খেলছে। একপর্যায়ে তার মধ্যে বিকৃত যৌন বাসনা জাগে এবং সে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গলা চেপে ধরে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হলে সে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়ে ঘটনা আড়াল করতে নানা কৌশল নেয়।

সোহানা হত্যাকান্ডটি ঘটার পর থেকেই তার পরিবার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো কিন্তু এলাকার সচেতন মহল ও সাংবাদিকেরা সবসময় বিষয়টি নজরে রেখেছিলো। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হওয়ায় পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ এবং দোষী নয়নের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া নয়ন মনিরামপুর থানাধীন মাছনা কাওমী মাদ্রাসার ছাত্র। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিকরগাছায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উদঘাটন: আপন ফুফাতো ভাই নয়ন গ্রেফতার

আপডেট: ০৬:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫

সাব্বির হোসেন, ঝিকরগাছা যশোরঃ যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাড়িয়া গ্রামে দশ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার আপন ফুফাতো ভাই নয়নকে (১৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

জানা গেছে, নিহত শিশুটি স্থানীয় বায়সা এবতেদায়ী দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৭ জুন সকালে সে তার ছোট ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। একই দিন দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কিন্তু কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরদিন ৮ জুন সকাল ৬টায় শিশুটির মৃতদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ভেসে থাকতে দেখা যায়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। শিশুটির ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন ও মুখে রক্ত দেখা যায়।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান নির্দেশনা দিলে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরে ১১ জুন সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে হাড়িয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন নয়নকে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন জানায়, ঘটনার দিন তার মামাতো ভাইকে মামা বাড়ি দিয়ে ফিরে এসে দেখে তার ছোট বোন ঘুমাচ্ছে আর ভিকটিম বাইরে দোলনায় খেলছে। একপর্যায়ে তার মধ্যে বিকৃত যৌন বাসনা জাগে এবং সে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গলা চেপে ধরে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শ্বাসরোধে শিশুটির মৃত্যু হলে সে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়ে ঘটনা আড়াল করতে নানা কৌশল নেয়।

সোহানা হত্যাকান্ডটি ঘটার পর থেকেই তার পরিবার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো কিন্তু এলাকার সচেতন মহল ও সাংবাদিকেরা সবসময় বিষয়টি নজরে রেখেছিলো। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হওয়ায় পুলিশের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ এবং দোষী নয়নের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া নয়ন মনিরামপুর থানাধীন মাছনা কাওমী মাদ্রাসার ছাত্র। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।