০২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি তুঙ্গে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৫১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠে গতি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার দুপুরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

ধানের শীষ প্রতীকের এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ।

মনোনয়ন সংগ্রহকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মো. আব্দুল মালেক মিন্টু ও মোশাররফ হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলম সবুজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বেদারুল ইসলাম, রামগড় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট করিম উল্লাহ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ওয়াদুদ ভূঁইয়া:খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এক সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ নেতা। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও পরবর্তীতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষিত হন।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। এছাড়া ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন।

স্থানীয় সরকার থেকে সংসদ-দীর্ঘ পথচলার গল্প:ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু স্থানীয় সরকার পর্যায় থেকে। ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে রেকর্ড এক লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে তৎকালীন চেয়ারম্যান সমীরণ দেওয়ানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগ করেন, যা সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে ২০০২ সালে সরকার তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এছাড়া ২০০১ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনী হাওয়ায় নতুন প্রত্যাশা:
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পাহাড়ি জনপদের উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মনোনয়ন সংগ্রহের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি যে পূর্ণ গতিতে শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি তুঙ্গে

আপডেট: ০৪:১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠে গতি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বুধবার দুপুরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

ধানের শীষ প্রতীকের এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার। এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ।

মনোনয়ন সংগ্রহকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মো. আব্দুল মালেক মিন্টু ও মোশাররফ হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলম সবুজ, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বেদারুল ইসলাম, রামগড় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট করিম উল্লাহ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল নোমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ওয়াদুদ ভূঁইয়া:খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে ওয়াদুদ ভূঁইয়া এক সুপরিচিত ও অভিজ্ঞ নেতা। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও পরবর্তীতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ঘোষিত হন।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। এছাড়া ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন।

স্থানীয় সরকার থেকে সংসদ-দীর্ঘ পথচলার গল্প:ওয়াদুদ ভূঁইয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু স্থানীয় সরকার পর্যায় থেকে। ১৯৮৯ সালে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার পরিষদ নির্বাচনে রেকর্ড এক লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তবে তৎকালীন চেয়ারম্যান সমীরণ দেওয়ানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগ করেন, যা সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে ২০০২ সালে সরকার তাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। এছাড়া ২০০১ সালে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনী হাওয়ায় নতুন প্রত্যাশা:
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পাহাড়ি জনপদের উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মনোনয়ন সংগ্রহের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি যে পূর্ণ গতিতে শুরু হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।