বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ঢাকার একটি কক্ষে ১৭ বছর বয়সী রাকিব ইসলাম নামে এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ কার্টনে ভরে নিজ বাড়ি নীলফামারীর ডিমলায় এনে মাটিচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ মামুন (১৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ডিমলার একটি সুপারি বাগান থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার উদ্যমপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলামের দ্বিতীয় ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ধানমন্ডি শুক্রাবাদ এলাকায় রাকিবের সঙ্গে মামুনের পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকার একটি কক্ষে দুজনের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে রাকিবকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর রাকিবের মোবাইল ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে রাকিব জীবিত আছে—এমন একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে মামুন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও ছেলেকে জীবিত ফেরত না পেয়ে পরিবার ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
তদন্তের সূত্র ধরে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর ঢাকার কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (ডিএমপি মামলা নং-০৫)।
জিজ্ঞাসাবাদে মামুন পুলিশকে জানান, হত্যার পর রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনে ভরে তিনি ঢাকার কল্যাণপুর থেকে রংপুরগামী একটি বাসে ওঠেন।
যাত্রাপথে কার্টুনে কী আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভেতরে ইলিশ মাছ রয়েছে। পরে রংপুরে পৌঁছে লোকাল বাসে করে তিনি ডিমলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ছাতনাই বালাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে আসেন এবং বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে সুপারি বাগানে কার্টুনসহ মরদেহটি মাটিচাপা দেন।
পুলিশের সহায়তায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে ওই সুপারি বাগান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে ডিমলা থানায় নেওয়া হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা নীলফামারী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় রতন (২৬) ও নুর জামাল (২৫) নামে আরও দুই ব্যক্তির নাম জানিয়েছে অভিযুক্ত মামুন।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল ইসলাম জানান, কাফরুল থানার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আসামিকে নিয়ে এসে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তে সহযোগিতা করেছে। এআই ভিডিও তৈরি, মুক্তিপণের টাকা লেনদেন এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.