০৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতি: বাস্তবতার পোস্টমর্টেম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১১৯

আশরাফুজ্জামান বাবু, স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অভিন্ন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সমতা আনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ ইতিবাচক মনে হলেও, বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা একটি বিশেষায়িত এবং স্বতন্ত্র শিক্ষা ধারা। সাধারণ শিক্ষার নির্ধারিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোরআন, হাদিস, ফিকহসহ একাধিক বিশেষায়িত বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হয়। ফলে পাঠ্যবই ও সিলেবাসের পরিধি সাধারণ ধারার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন প্রশ্ন কাঠামোয় পরীক্ষা দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পড়াশোনার ধরন সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সময়ের সীমাবদ্ধতা। পরীক্ষার আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। আগামী মাসেই শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে মূল পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে নতুন প্রশ্ন পদ্ধতির সাথে শিক্ষার্থীদের খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। মাত্র কয়েক মাসের নোটিশে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে গেলে তা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলেই শুধু প্রভাব ফেলবে না, বরং তাদের মানসিক চাপের মুখে ফেলবে।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে মাদ্রাসা শিক্ষায় বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষাধারার প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতির সাথে নীতিগতভাবে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই। তবে যেকোনো নতুন শিক্ষানীতি বা পরীক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় ও পূর্বপ্রস্তুতি দেওয়া আবশ্যক। হুট করে সিদ্ধান্ত না চাপিয়ে অন্তত এক বছর সময় বৃদ্ধি করে ২০২৮ সাল থেকে এই অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। একই সাথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন পদ্ধতির সাথে অভ্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্তের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতি: বাস্তবতার পোস্টমর্টেম

আপডেট: ০৯:২৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশরাফুজ্জামান বাবু, স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ২০২৭ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অভিন্ন বিষয়গুলোতে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সমতা আনার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ ইতিবাচক মনে হলেও, বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মাদ্রাসা শিক্ষা একটি বিশেষায়িত এবং স্বতন্ত্র শিক্ষা ধারা। সাধারণ শিক্ষার নির্ধারিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কোরআন, হাদিস, ফিকহসহ একাধিক বিশেষায়িত বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হয়। ফলে পাঠ্যবই ও সিলেবাসের পরিধি সাধারণ ধারার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন প্রশ্ন কাঠামোয় পরীক্ষা দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পড়াশোনার ধরন সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সময়ের সীমাবদ্ধতা। পরীক্ষার আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। আগামী মাসেই শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে মূল পরীক্ষার ঠিক আগমুহূর্তে নতুন প্রশ্ন পদ্ধতির সাথে শিক্ষার্থীদের খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। মাত্র কয়েক মাসের নোটিশে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে গেলে তা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলেই শুধু প্রভাব ফেলবে না, বরং তাদের মানসিক চাপের মুখে ফেলবে।

পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া তড়িঘড়ি করে নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে মাদ্রাসা শিক্ষায় বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষাধারার প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও অভিন্ন মূল্যায়ন পদ্ধতির সাথে নীতিগতভাবে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ নেই। তবে যেকোনো নতুন শিক্ষানীতি বা পরীক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় ও পূর্বপ্রস্তুতি দেওয়া আবশ্যক। হুট করে সিদ্ধান্ত না চাপিয়ে অন্তত এক বছর সময় বৃদ্ধি করে ২০২৮ সাল থেকে এই অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। একই সাথে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন পদ্ধতির সাথে অভ্যস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্তের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা হোক।