রাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ যশোরের মণিরামপুরে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে অন্তত ৩০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় কৃষক ও গৃহস্থদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
চুরির এই হিড়িকের কারণে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর উদ্ধার অভিযান বা পদক্ষেপ না থাকায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেকে গরু রক্ষায় রাত জেগে গোয়াল পাহারা দেওয়া শুরু করেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট গভীর রাতে মণিরামপুর পৌরশহরের কামালপুর এলাকায় আবুল কাশেমের বাড়ির গোয়ালের দরজা ভেঙে দুইটি, আব্দুল লতিফের দুইটি এবং মিজানুর রহমানের দুইটি গরু চুরি হয়। এরপর ২৭ আগস্ট মোহনপুর এলাকায় হেলাল উদ্দিনের একটি ও বিল্লাল হোসেনের একটি গরু চুরি হয়।
২৮ আগস্ট খানপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের জয়নাল হোসেনের দুইটি এবং শ্যামকুড় ইউনিয়নের লাউড়ী গ্রামের হোসেন আলীর দুইটি ফ্রিজিয়ান গরু চুরি যায়। ১ সেপ্টেম্বর রাতে জামলা গ্রামের উত্তম ব্যানার্জীর গোয়াল থেকে তিনটি গরু চুরি হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ভোজগাতী ইউনিয়নের কোন্দর্পপুর গ্রামের রাসেল হোসেনের দুইটি এবং মাছনা গ্রামের মফিজুর রহমানের বাড়ি থেকেও একটি গরু চুরির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে মণিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া কোনো গরু উদ্ধার কিংবা চোরচক্রের কোনো সদস্য আটক না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ ও আবুল কাশেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের দুইটি করে মোট চারটি জার্সি গরু চুরি হওয়ার পর থানায় পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
হেলাল উদ্দিন বলেন, চোরদের বিরুদ্ধে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েই চলেছে। আমরা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত ও গরু উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
বিজয়রামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, ব্যাপকহারে গরু চুরি বেড়ে যাওয়ায় এখন রাত জেগে বাড়িতে গরু পাহারা দিতে হচ্ছে। প্রতিটি বাড়িতেই চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় গরু চুরির বিষয়টি তুলে ধরেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার হোসেন খানসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী। সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনসহ উপস্থিত সবাই। একই সঙ্গে গরু চোরদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে তাগিদ দেওয়া হয়।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, গরু চোর আটকের জন্য পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও গৃহস্থরা দ্রুত গরু চোরচক্র শনাক্ত, চুরি যাওয়া গরু উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাতের বেলায় গ্রাম ও বাজার এলাকায় পুলিশের টহল জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.