নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নে নিজ নামের নয় শতক জমি বিক্রি করে একাধিক মামলায় আসামী হয়েছেন মনিরা খানম নামে এক নারী।
তার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নে এবং তার শশুর বাড়ি যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুরায়।
চাকুরী সূত্রে তিনি তুলারামপুর ইউনিয়নের রেলব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় জমি কিনে বসবাস করতেন। মনিরা খানমের জমি ক্রয় করে একাধিক মামলার আসামী হয়েছেন তুলারামপুর ইউনিয়নের স্বনামধন্য আমিন মোঃ মুফাকরুল তরফদার।
অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর জমি ও টাকা পয়সা আত্মসাৎ করতে ব্যর্থ হয়ে মামলাগুলো করেছেন জমি বিক্রেতার তালাক প্রাপ্ত স্বামী যশোহর জেলার ভাঙ্গুরা গ্রামের ফারুক হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের মৃত মতিয়ার রহমানের মেয়ে ও বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুরা গ্রামের মৃত এ্যাডঃ শাহা আলমের স্ত্রী মনিরা খানম (৪৮) ২০২৪ সালে ৭৯নং তুলারামপুর মৌজায় নিজ নামীয় ৯ শতক জমি ১৬৬৭/২০২৪ নং সাফ কবলা দলিল মুলে বিক্রি করেন তুলারামপুর ইউনিয়নের মোঃ মুফাকরুল তরফদার(৫৫) এর কাছে।
আর এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জমি বিক্রেতার সাবেক স্বামী ফারুক হোসেন নড়াইল সদর থানা, নড়াইল বিজ্ঞ আমলী আদালত, নড়াইল সদর বিজ্ঞ নালিশী আদালত, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৮০, ৪২৭, ৪৫৭,১০৯, ১৪৪/১৮৮ ধারায় মনিরা ও মুফাকরুলকে আসামী করে মামলা করে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে প্রত্যেকটি মামলা মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় অধিকাংশ মামলা খারিজ করে দেন বিজ্ঞ আদালত।তবুও থেমে নেই মামলাবাজ ফারুক হোসেন। একেরপর এক মিথ্যা মামলা করেই যাচ্ছেন।
মনিরা খানমের সাথে সংসার করা কালে জোরপূর্বক সই করিয়ে রাখা চেক বইয়ের পাতা দিয়েও সম্প্রতি নড়াইল আদালতে মামলা করেছেন এই মামলাবাজ ফারুক।
ভুক্তভোগী মনিরা খানম জানান, প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর ২০০৯ সালে ভাঙ্গুরার ফারুক হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরে ফারুক হোসেন তুলারামপুরে মনিরা খানমের সাথেই থাকতেন।
প্রথমদিকে ভালো ব্যবহার করলেও মনিরার টাকা ও সম্পদের লোভে মনিরার উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করে ফারুক।
এরই মধ্যে মনিরার কাছে তুলারামপুরের বসত বাড়ির জমি দাবি করে ফারুক।
২০১৮ সালের ৮ই মে জোরপূর্বক ২৩৪২/২০১৮ নং হেবা দলিল মুলে ফারুককে ১শতক জমি লিখে দিতে বাধ্য হন মনিরা। এরপরও বাকি জমিসহ টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় ২০২৩ সালের ৯ই জুন ফারুককে তালাক দেন মনিরা খাতুন।
তালাক দেওয়ার পরে অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে কৌশলে মনিরাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ষরযন্ত্র শুরু করেন ফারুক । ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে ২০২৪ সালে তুলারামপুর ইউনিয়নের মুফাকরুল তরফদারের কাছে ন্যায্য দামে জমি বিক্রি করে দেন মনিরা।
সেই থেকেই একেরপর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে থাকেন মামলাবাজ ফারুক। মনিরা খানম কান্না জড়িত কণ্ঠে প্রশাসনের কাছে প্রতারক মামলাবাজ, নারী লোভী ফারুকের বিচার দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে জমির ক্রেতা তুলারামপুর ইউনিয়নের মুফাকরুল তরফদার বলেন ৭৯নং তুলারামপুর মৌজার এস এ ৮৮১ নং খতিয়ান, আর এস ১৯৯০ নং খতিয়ান ভুক্ত এস এ ২০৬১, হাল-৩১০১ দাগের ১০শতক জমি থেকে ৯শতক জমি ১৬৬৭/২০২৪ নং সাফ কবলা দলিল মুলে মনিরা খানমের কাছ থেকে ক্রয় করি।
জমি কেনার সময় আমি নড়াইলে ছিলাম না। এক্সিডেন্ট করে মারাত্মক আহত অবস্থায় ঢাকা বারডেমে ভর্তি ছিলাম। জমি কেনার মত মানসিক অবস্থা তখন আমার ছিলনা,আমার জীবন নিয়ে সংশয় ছিল।
মনিরা খানমের অনুরোধে আমি জমিটি নিতে রাজি হই।
জমি কেনার পরে মনিরা তার সন্তান ও স্থানীয় এলাকা বাসীরা উপস্থিত থেকে আমার কেনা জমি আমাকে দখল বুঝিয়ে দেন।
অথচ মনিরার তালাক দেওয়া স্বামী ফারুক হোসেন আমাকে ও মনিরাকে হয়রানি ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা ও মোটা অংকের অর্থ চাঁদা আদায়ের জন্য একেরপর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
তাঁর এলাকায় খোজ নিয়ে জানতে পেরেছি সে একজন সন্ত্রাসী টাইপের লোক। মামলা দিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়াই তার পেশা।
সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ফারুকের জন্য সামাজিক অর্থনৈতিক ভাবে অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। অচিরেই আমি তার বিরুদ্ধে নড়াইল আদালতে মামলা করবো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল (০১৭১৬০৩০৫৪২) নাম্বারে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.