২৫০ টাকা পকেটে নিয়ে ঢাকায় যাত্রা, আজ জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত কণ্ঠ
- আপডেট: ০৯:৫০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
- / ৫৮

বিশেষ প্রতিনিধি: খেলার মাঠের উত্তেজনা, গোলের মুহূর্তের রোমাঞ্চ আর খেলোয়াড়দের সাফল্যের গল্প—সবকিছুকে কণ্ঠের জাদুতে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে জীবন্ত করে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রীড়া ধারাভাষ্য অঙ্গনে পরিচিত একটি নাম কুমার কল্যাণ।
তাঁর মূল নাম কল্যাণ কুমার সাহা। যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে জন্ম নেওয়া এই ধারাভাষ্যকার দীর্ঘ সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
কুমার কল্যাণের পথচলা ছিল সহজ নয়। শৈশব থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ। পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে তিনি ছুটে যেতেন খেলার মাঠে। পাশাপাশি রেডিওতে কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার অজয় বসু, নীলিমেশ রায় চৌধুরী, চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত ও খোদাবক্স মৃধার ধারাভাষ্য শুনে তাঁর মনে তৈরি হয় ধারাভাষ্যকার হওয়ার স্বপ্ন।
সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রত্যয়ে ২০০৩ সালে মাত্র ২৫০ টাকা পকেটে নিয়ে যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমান কল্যাণ কুমার সাহা। কঠোর পরিশ্রম, অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে তিনি নিজের কণ্ঠ ও উপস্থাপনার স্বতন্ত্রতা তৈরি করেন।
তাঁর নাম ‘কুমার কল্যাণ’ রাখার পেছনেও রয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। প্রখ্যাত ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত তাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘কুমার কল্যাণ’ রাখেন। পরবর্তীকালে এই নামেই তিনি ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন।
বেতার থেকে বিটিভি—পেশাদার যাত্রার বিস্তারঃ
কুমার কল্যাণের পেশাদার ধারাভাষ্য জীবনের সূচনা হয় ২০০৬ সালে বাংলাদেশ বেতারে। এরপর ২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে নিয়মিত ধারাভাষ্য দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। সময়ের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠ পরিচিত হয়ে ওঠে দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের দর্শক-শ্রোতাদের কাছে।
জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ফুটবল ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ধারাভাষ্য দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। ধারাভাষ্য বিষয়ক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
সম্মাননায় যুক্ত হয় স্বীকৃতির অধ্যায়ঃ
ক্রীড়া ধারাভাষ্যে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিও এসেছে বিভিন্ন পর্যায়ে। ২০১৩ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে’ ধারাভাষ্য দেওয়ার জন্য তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা লাভ করেন।
এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ পথচলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্বপ্ন থেকে সাফল্যের গল্পঃ
যশোরের প্রত্যন্ত গ্রামের একজন তরুণের হাতে ছিল সামান্য অর্থ, কিন্তু মনে ছিল বড় স্বপ্ন। মাত্র ২৫০ টাকা নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমানো সেই তরুণ আজ জাতীয় ক্রীড়া অঙ্গনের পরিচিত কণ্ঠ—কুমার কল্যাণ।
তাঁর জীবনকাহিনি শুধু একজন ধারাভাষ্যকারের সাফল্যের গল্প নয়; এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় মঞ্চে উঠে আসা কুমার কল্যাণ এখনো ধারাভাষ্যের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে এই পেশায় আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে খেলার উত্তেজনা ও আবেগকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলার এই যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই ক্রীড়াপ্রেমীদের।






















