খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
"আমরা যদি পরিবেশকে টেকসইভাবে সংরক্ষণ করতে না পারি, তাহলে মানুষ হিসেবে আমাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। বিশুদ্ধ অক্সিজেনের সংকট তৈরি হবে, শহর-গ্রাম সমানভাবে দূষিত হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব আমরা ইতোমধ্যেই অনুভব করছি। তাই পরিবেশ রক্ষা এখন আর কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই।"
খাগড়াছড়িতে সপ্তাহব্যাপী "বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬"-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ মেলা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
উদ্বোধনের আগে টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বর ঘুরে পুনরায় টাউন হল প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে টাউন হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, একসময় মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশে ফ্যান ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করত। বর্তমান প্রজন্ম হয়তো সেই সময় দেখেনি, কিন্তু তাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে শুনতে পারে—প্রকৃতি তখন অনেক বেশি শীতল ও ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, অনেক সময় ফ্যানও যথেষ্ট নয়; শীতলতার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। বাইরে বৃষ্টি হলেও ঘরের ভেতরে গরম অনুভূত হয়। এটি জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ঋতুচক্রেও এখন স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শীত আসতে দেরি হচ্ছে, আবার বিদায় নিতেও সময় লাগছে। প্রকৃতির এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের পেছনে পরিবেশ দূষণ বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।
পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারকে দায়ী করে বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত প্লাস্টিক ও পলিথিনজাত বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে দিচ্ছি। এগুলো সহজে মাটির সঙ্গে মিশে না। ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, একদিকে নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই অনুপাতে নতুন গাছ লাগানো হচ্ছে না। কিছু অসাধু কাঠ ব্যবসায়ী ও বনদস্যু সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছও কেটে নিচ্ছে। এতে বন উজাড় হচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে জাতীয় আন্দোলনের রূপ দিয়েছিলেন এবং নিজে গাছ লাগানোর পাশাপাশি দেশের মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করেন।
তিনি বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন বসতি ও স্থাপনা গড়ে উঠছে। এতে কৃষিজমি, খোলা জায়গা ও বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্র দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই উন্নয়ন যেন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করে—সেদিকে সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
আয়োজকরা জানান, আগামী ২৩ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে সপ্তাহব্যাপী এ বৃক্ষমেলা। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও পরিবেশপ্রেমীরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.