আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দল ভাঙছে, ক্রমশ নিঃসঙ্গ হচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। বুধবার হাত ছেড়েছেন মমতার ছায়াসঙ্গী মদন মিত্র।
এমন অবস্থায় দমে না গিয়ে শূন্য থেকে শুরু করার বার্তা দিয়েছেন মমতা।তার সঙ্গ ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকর্মীদের বুধবার আরো একবার বেইমান বলেছেন তিনি। তাদের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী বলে জানিয়েছেন মমতা। পাশাপাশি দলের জন্মলগ্নে লড়াই করতে পারলেও এখনো তিনি লড়াই করতে পারবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুক লাইভে এসে মমতা তৃণমূলের প্রতিষ্ঠালগ্নের কথা তুলে এনে ধরে বলেন,“১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি আমরা প্রতীক পাই। ২২দিনের মাথায় নির্বাচনে লড়াই করি। ৮ এমপি ছিল। ১৯৯৯ সালে ফের লোকসভা নির্বাচন হয়। আমরা ৯ জন হই। ২০০৪ সালে একা হয়ে গিয়েছিলাম। লড়াই করে গিয়েছি। এখন রাজ্যসভায় ১০ জন। লোকসভায় ৮ জন এমপি আছে। যারা যাওয়ার চলে যাক। ১৯৯৭-৯৮ সালে লড়াই করতে পারলেও ২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি।”
বিধানসভা নির্বাচনের পরেই আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি গোষ্ঠী তাদের আসল তৃণমূল দাবি করেছেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনে তারা দলের নাম ও প্রতীকের অধিকার দাবি করেছে। এমন অবস্থায় মমতার হয়ে বা কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে যে কয়েকজন নেতৃত্ব সর্বশেষ দাঁড়িয়ে ছিল তাদের কয়েকজন যেমন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, জাভেদ খান একেবারে সাম্প্রতিক সময়ে শিবির বদল করেছেন। বুধবার মদন মিত্র শিবির বদল করার পর আর মেজাজ ধরে রাখতে পারলেন না মমতা।
মমতা বলেন, “অভিষেক বাহানা। ওর ভুল মাফ হয়ে গিয়েছে। সে লড়ে যাচ্ছে। আগামি ৫০ বছর লড়বে।”
মদনের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছেলে, স্ত্রীর নামে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। আরো একজন আজ গিয়েছে, আগেই জানিয়েছিলেন তার পরিবারকে ইডি শমন করেছে। বুঝতে পেরেছিলাম। সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”
মমতার অভিযোগ, তার দলের কর্মীদের এলাকায় মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
তারপরেই তিনি বলেন, “যারা এলাকায় মিটিং করতে পারবেন না, তাদের জন্য আমার অফিস উন্মুক্ত আছে। এখান থেকেই আমি তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছি। ১৯৮৪ সালের সংসদ সদস্য হওয়া বা তার আগে থেকে এখান থেকেই কার্যালয় চালাতাম। সেদিন যদি করতে পারি, আজকেও করতে পারব।”
পুলিশের সমালোচনা করে মমতা বলেন, “আইসি হয়েছেন বিজেপির ব্লক সভাপতি, এসপিরা হয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি। তারা এলাকায় এলাকায় গিয়ে বিধায়কদের, কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছেন।”
মমতা বলেন, “আজকে যদি সেটিং আমি নিজে করে নিতাম, তাহলে তো এই অত্যাচার আমাদের সহ্য করতে হতো না। কিন্তু আমি কোনোদিন আদর্শ বিকিয়ে খাইনি, মূল্যবোধ বিকিয়ে খাইনি।”
একের পর এক সঙ্গ ছাড়ার মাঝে তিনি বললেন, “মানুষই আমাদের জাগ্রত শক্তি, যে হাজার হাজার, লাখ লাখ কর্মীরা এখনো আছে, তারাই আমার সোনার কর্মী।”
ফেসবুক লাইভ থেকে মমতা তার দলের বড় কর্মসূচি হিসেবে একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের জনসভার ঘোষণাও দিয়েছেন। একুশে জুলাই শহীদ দিবসকে কেন্দ্র করে বছরের অন্যতম বড় জনসভা করেন মমতা। তবে দলের ভাঙনের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের তরফেই একুশে জুলাই শহীদ দিবসের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। একটি হবে ধর্মতলায় ও একটি হবে বিড়লা প্লেনটোরিয়ামের সামনে সামনে। এরমধ্যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে এসে আদালতের নির্দেশে বিড়লা প্লাটিয়ামের সামনের জনসভাটি করবেন মমতা। সেই মিটিংয়ে কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত।
সেই কথা জানিয়ে মমতা বলেন, “বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামে মিটিং হবে। আমি প্রতিবারের মতো ২০ জুলাই জায়গা পরিদর্শনে যাব। আমি পুলিশকে অনুরোধ করব যেন বিজেপি ও সেটিং পার্টি যেন কোনো ঝামেলা না করতে পারে তা দেখতে। ডেকরেটার্স মাইকদের ভয়ও দেখাতে পারে। তবে মনে রাখবেন খালি গলাতেও সভা করতে পারি। বলেছি যখন, মিটিং হবেই। আমরা ৩টা পর্যন্ত মিটিং করব।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.