নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত প্রেমিক ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন-২০২৬) উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—শার্শা থানার গিলাপোল গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে মোঃ আবুল কালাম অপু (২৫) এবং একই গ্রামের সেকেন্দার বাদশা ওরফে কারেন্ট ব্যাপারীর ছেলে মোঃ সাব্বির (২৩)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গিলাপোল গ্রামের আবুল কালাম অপু দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম মরিয়ম খাতুনকে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।
একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২৭ জুন (শনিবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অপু বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে শার্শা থানার উলশী ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামের ‘বর্ণমালা বিদ্যাপীঠ’ স্কুলের পেছনে বকতিয়ারের আমবাগানের পাশে একটি বাঁশবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অপু ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) স্থাপন করে। আর এই সময় দূর থেকে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয় তার সহযোগী সাব্বির।
পরবর্তীতে ওই তরুণী প্রেমিক অপুকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে এবং একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে অপু তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় উপস্থিত উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে দুই আসামীকে হালকা মারপিট করে আটকে রাখে এবং থানায় খবর দেয়।
খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসামীদ্বয়কে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
পরবর্তীতে ভিকটিমের মা মোছাঃ ছায়রা বেগম বাদী হয়ে ধৃত দুই আসামীকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শামিনুল হক জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১ জুলাই) শার্শা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ধৃত দুই আসামীকে বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.