নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের শার্শার আলোচিত বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন জামিনে মুক্তি পেয়ে বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন। তবে একই মামলার অপর অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুন এখনও কারাগারে রয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্লাস বর্জন করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একজন প্রধান শিক্ষিকার পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, এমন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া শিক্ষার পরিবেশের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। তাই তার বিরুদ্ধে আদালতের বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা উচিত।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন বলেন, আমার বিদ্যালয়ে যোগদানে আইনি কোন বাঁধা নেই। আমি সকাল ৯ টার সময় বিদ্যালয়ে এসেছি। তখন কোন শিক্ষার্থী কোন প্রতিবাদ করেনি। পরে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়ে এ কাজ করিছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার একেএম নুরুজ্জামান জানান, প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুনের মামলাটি আদালতে বিচারধীন। ওনার বিরদ্ধে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। তাই বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই স্কুলে দ্বায়িত্ব পালনে তার বাঁধা নেই।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে শার্শার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে আটক করে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রে অংশ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শেষে প্রধান শিক্ষিকা গোপনে মেয়ের উত্তরপত্র সংগ্রহ করে তাতে সংশোধন করেন এবং কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় পুনরায় জমা দেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলে আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.