বি.এম বিল্লাল হোসেন (রাজগঞ্জ) : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার মানিকগঞ্জ (গজশ্রী) খাল খনন কাজ চলমান থাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানের আশায় উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে খালের উপরে অবস্থিত ব্রিজের মুখে থাকা বাঁধ অপসারণ এবং জরাজীর্ণ পুরাতন স্লুইস গেট ভেঙে আধুনিক ও কার্যকর নতুন স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময় গজশ্রী খাল দিয়ে বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত ঝাঁপা বাওড়ে নেমে যেত। কিন্তু বর্তমানে খালের বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা সংকট, ব্রিজের মুখে বাঁধ এবং অকার্যকর স্লুইস গেটের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে বাওড়ের পানি উল্টো খাল দিয়ে আশপাশের এলাকায় প্রবেশ করে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর বর্ষাকালে প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার একর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ধান, পাট, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুধু কৃষিজমিই নয়, অনেক বসতবাড়িও প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে খাল খননের কাজ চললেও খালের গভীরতার তুলনায় মানিকগঞ্জ ব্রিজের স্লুইস গেট অনেক উঁচু অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ব্রিজের মুখে বাঁধ পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে থাকে। ফলে শুধুমাত্র খাল খনন করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না বলে মনে করছেন তারা।
তাদের মতে, খননকাজের পাশাপাশি ব্রিজের মুখের বাঁধ অপসারণ এবং নতুন করে পরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণ করা হলে বর্ষাকালে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে, রক্ষা পাবে কৃষিজমি ও বসতভিটা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, খাল খননের প্রকৃত সুফল পেতে হলে পানি প্রবাহের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
বর্তমানে গজশ্রী খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। কাজ শেষে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.