নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়া মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাটির পেছনে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যশোর কোতয়ালী মডেল থানার মামলা নং-২৪/২৮৪, তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৬, অস্ত্র আইনের ১৯এ/১৯(এফ) ধারায় দায়েরকৃত এ মামলায় প্রথমে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়।
গত ৬ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে ডিবির এসআই অলক কুমার দে পিপিএম-এর নেতৃত্বে একটি দল যশোর শহরের এমকে রোডের সন্ধানী সুপার মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মেসার্স তন্নী টেলিকম দোকানে কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
অভিযান চালিয়ে দোকানের মালিক মো. আলী হোসেন (৩৩)কে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার হেফাজতে অবৈধ অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে একটি সচল বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও একটি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে তদন্তভার ন্যস্ত হয় ডিবির এসআই মো. সালাউদ্দিন খানের ওপর।
তদন্ত চলাকালে গ্রেফতারকৃত আলী হোসেনের দেওয়া তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বিশেষ টিমের অভিযানে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন খালিদুর রহমান টিটু (৩৩) ও শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস (৪০)।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য এবং এর আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত আলী হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে। অন্যদিকে খালিদুর রহমান টিটুর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরকসহ মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।
এদিকে, আলী হোসেনকে গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, অভিযানের আগেই এক ব্যক্তি শপিং ব্যাগ হাতে মার্কেটে প্রবেশ করে আলী হোসেনের দোকানে ব্যাগটি রেখে যায়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌসকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো হলে তিনি স্বীকার করেন, ব্যাগটি তিনিই রেখে গিয়েছিলেন।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামি শেখ মইনুদ্দীন ফেরদৌস ও খালিদুর রহমান টিটু আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.