নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, পাবনা, যশোর ও নাটোর জেলায় এই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পরীক্ষায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসচেতনতা এই রোগকে মহামারির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণের ফলে আক্রান্ত শিশুদের অনেকে মৃত্যুবরণও করেছে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এর প্রধান লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে।
রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মার্চ মাসেই সারা দেশে অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফলে একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা এই রোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে অভিভাবকদের মধ্যে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো টিকা না নেওয়া, সচেতনতার ঘাটতি এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হওয়াই হাম প্রার্দুভাবের কারণ। তবে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললে হাম থেকে শিশুদের অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়াই হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ডা. শ্রীবাস পাল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জটিলতা সৃষ্টি করলে প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই সময়মতো টিকাদান ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু সতর্কতা মেনে চললে শিশুদের হাম থেকে অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব—
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এমআর/এমএমআর টিকা গ্রহণ। দুই ডোজ টিকা রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
দৈনন্দিন সতর্কতা
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বাইরে থেকে এসে হাত-মুখ পরিষ্কার করা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
শিশুর ব্যবহার্য জিনিস পরিষ্কার রাখা। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রেখে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও তরল গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার, ফলমূল ও শাকসবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা, সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হামের বিস্তার রোধের প্রধান উপায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.