আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলার তথ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়, ইরান একযোগে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। এসব হামলায় সরাসরি মার্কিন সেনাদের আবাসন ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩০০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ২৭৩ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সুরক্ষিত এই ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাকে ওয়াশিংটনের জন্য বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে—এমন সময়েই এই হামলা ঘটল।
স্যাটেলাইট চিত্রে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও আশপাশের অবকাঠামোয় ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান এই হামলা চালিয়েছে।
হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবে মোতায়েন করা প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও পেন্টাগনের ভেতরে পর্যালোচনা চলছে।
এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তাদের ওপর হামলা হলে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এদিকে, ওয়াশিংটন এই হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.