নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যশোরের শার্শা সীমান্তের ত্রাস-এলাকার কথিত মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত সাজু বদ্দিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে তাকে আটকের পর সমর্থকদের সংঘবদ্ধ তৎপরতার কারণে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে একই রাতেই কড়া নিরাপত্তায় তাকে যশোর জেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়। শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) সকালে তাকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আটককৃত সাজু বদ্দি যশোর জেলার শার্শা থানার পাঁচভুলোট গ্রামের আজিবার বদ্দির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচভুলোট গ্রামের বাসিন্দা সাজু বদ্দির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, অস্ত্র, মাদক ও সহিংসতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সীমান্ত এলাকায় মাদক চক্র ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ ছিল। তবে নানা কারণে তাকে এতদিন গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, সাজু বদ্দির বিরুদ্ধে অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে শার্শা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর এফআইআর নম্বর যথাক্রমে ৫৫/৪৯১ (৩১ অক্টোবর ২০১৮), ৩০/৪৬৬ (১৫ অক্টোবর ২০১৮) এবং ১৫/৪০৩ (৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮)। এসব মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর ধারা ১৫(৩) ও ২৫-ডি এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ১৯০৮-এর ৪, ৫ ও ৬ ধারায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের ২২ মে শার্শা থানায় অস্ত্র আইনের ১৯(ভ)/১৯-৪ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। ২০১৪ সালে একই থানায় দন্ডবিধির ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি এবং ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এসব মামলার বেশিরভাগই সহিংসতা, বিস্ফোরক ব্যবহার এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ২২ মে পাঁচভুলোট গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে বের হয়ে তিনি আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত মামলাতেও তার নাম রয়েছে। ২০১৯ সালের ৪ জুলাই শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়। একইভাবে ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০-এর ১৯(১) ধারার ৩(খ) অনুযায়ী দায়ের করা আরেকটি মামলাতেও তার নাম রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সাজু বদ্দিকে শার্শা থানায় নেওয়া হলে তার সংঘবদ্ধ কয়েকজন সমর্থক থানার সামনে জড়ো হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত কিছু ব্যক্তি তাকে জোর করে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাজু বদ্দিকে “গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু লোক থানার সামনে ভিড় করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাকে যশোরে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। সাজু বদ্দি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পাঁচভুলোট গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, “অনেক দিন ধরেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শুনে আসছি। তাকে আটক করায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। পাশাপাশি সাজু বদ্দির অপরাধচক্রের সম্ভাব্য অন্যান্য সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাজু বদ্দিকে শুক্রবার রাতে আটক করা হয়। পরে তাকে একই রাতে যশোরে পাঠানো হয়। শনিবার সকালে তাকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.