খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বনমোরগ জব্দ করে পরে অবমুক্তের ছবি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পরে জবাই করে রান্না করে খেয়ে, জানাজানির পরে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জ এলাকায়। অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তার নাম সিরাজুল ইসলাম। তিনি জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুর এলাকার এক ব্যক্তি স্থানীয় বাজার থেকে একটি বনমোরগ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে বন বিভাগের লোকজন তাঁকে আটক করে। পরে তাঁর কাছ থেকে বনমোরগটি জব্দ করা হয় এবং স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী রেখে একটি মুচলেকায় তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে নিয়ম অনুযায়ী উদ্ধার করা বনমোরগটি নিকটবর্তী বনে অবমুক্ত করার কথা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার করা বনমোরগটি বনে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।
উদ্ধার হওয়া বনমোরগের মালিক দাবি করেন, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন বিভাগের পক্ষ থেকে একটি ছবি দেখতে পান, যেখানে বনমোরগ অবমুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ছবিতে যে মোরগ দেখা গেছে, সেটি তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা মোরগ নয়।
তিনি বলেন, “আমি যে বনমোরগটি কিনেছিলাম, সেটি দেখতে আলাদা ছিল। পরে যে ছবিটি দেওয়া হয়েছে, সেটি একেবারেই অন্য মোরগ—দেখে মনে হয়েছে দেশি মোরগ।”
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেনও একই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “বনমোরগটি আটক করার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম। নিজের মোবাইলে ছবিও তুলেছি। কিন্তু পরে যে মোরগ অবমুক্ত করা হয়েছে, সেটির সঙ্গে উদ্ধার করা বনমোরগটির কোনো মিল পাইনি। এটা স্পষ্টই দেশি মোরগ।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম দাবি করেছেন, উদ্ধার করা মোরগটিই বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে,উদ্ধার হওয়া বনমোরগটি কোথায় গেল এবং ছবিতে দেখা মোরগটি কোথা থেকে এল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.