সাঈদ ইবনে হানিফ : যশোরের বাঘারপাড়ার দরাজহাট ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে মাটিকেটে বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যাক্তি কে জেল ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযোগ রয়েছ ওই এলাকার প্রভাব শালি কাকন মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাবসা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভুগিরা একাধিক বার অভিযোগ দিলেও কোনভাবেই থামানো যায়নি কাকন মেম্বারের অবৈধভাবে মাটি বিক্রির ব্যবসা।
সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা মৌখিকভাবে নিষেধ করলেও তিনি তা তোয়াক্কা করেননি। ক্ষমতাসীন এক নেতার ছেলেকে সাথে নিয়ে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন এ অপকর্ম। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গতকাল বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখানে হানা দিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন। আদালত দুই ব্যাক্তিকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমান অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন।
এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছ, দরাজহাট ইউনিয়নের কাকান মেম্বর র্দীঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি ও বালির ব্যবসা করে আসছিলেন। তার এসব অপকর্ম নিয়ে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময়ে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। উপজেলার মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কয়েক দফায়। প্রসাশনের হস্তক্ষেপে মাঝে মধ্যে ব্যবসা বন্ধ রাখলেও তিনি বিভিন্ন ঘাট ম্যানেজ করে আবারও শুরু করে ব্যবসা।
জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে তিনি বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতার ছেলেকে সাথে নিয়ে ও এনসিপি’র এক নেতার প্রত্যাক্ষ মদদে শুরু করেন বালি উত্তোলনের ব্যবসা। তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোভন সরকারের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। শোভন সরকারের বদলীর পর শুরু করেন মাটির ব্যবসা। বিএনপি নেতার ঐ ছেলে আর এনসিপি নেতার সমন্বয়ে কাকন মেম্বর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। দরাজহাট ইউনিয়নের সৈয়দ মাহমুদপুর গ্রামের মান্দিয়া টুটা নামের জায়গায় বিভিন্ন ব্যাক্তির মালিকাধিন জমি নামেমাত্র ক্রয় করে পাশে থাকা সরকারের খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটতে থাকেন। এ সব বিষয় নিয়ে ভুক্তভোগিরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাকন মেম্বরকে ডেকে মৌখিকভাবে হুশিয়ারি করেন বিষয়টি নিয়ে। মাটি না কাটার অঙ্গীকারও করেন কাকন মেম্বর। উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে আবারও শুরু করেন মাটি বিক্রির ব্যবসা। বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল দুপুরে সেখানে হানা দেন। ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এস্কেভেটর ড্রাইভার সাব্বির হোসেন(১৮) তার পিতা শাহাবউদ্দীনকে(৩৮) কে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। আদাল এ সময় দুটি ড্রাম ট্রাক, দুটি এস্কেভেটর ও একটি ট্রাকটরসহ ট্রলি জব্দ করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জরিমানা পরিশোধের সময় বেধে দেন বিকাল চারটা পর্যন্ত। ভ্রাম্যমান আদালতে এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দা নাসরিন জাহান, বাঘারপাড়ার থানার এসআই গোবিন্দ কুমারসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে নিষেধ সত্বেও কাকন মেম্বর মাটি কাটা অব্যহত রাখেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে ভ্রম্যমান আদলত বসানো হয়। স্পটে দুইজনকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। দুইজনই বাঘারপাড়া থানায় আটক রয়েছে। যেহেতু টাকা পরিশোধ করেননি। যে কারণে জেল বলবৎ রয়েছে।
সরকারের খাস খতিয়ানের জায়গা থেকে মাটি কাটার কারণে স্থানীয়রা অপরাধিদের বিরুদ্ধের নিয়মিত মামলা করার দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.