খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক;খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।।
“নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি”—এই শক্তিশালী ও সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ। মঙ্গলবার (০৯ ডিসেম্বর) দুপুরে শহরের টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে প্রাণবন্ত শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নারী সংগঠন, শিক্ষার্থী ও অংশীজনরা অংশ নেন।
শোভাযাত্রা শেষে টাউন হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুষ্মিতা খীসা'র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত।
নারীর অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না- জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত..
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন,“নারীকে প্রান্তিক রেখে কোনো সমাজ এগোতে পারে না। আমাদের ঘরে-বাইরে, কর্মক্ষেত্রে এবং ডিজিটাল দুনিয়ায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন নয়,সমাজের মানসিক পরিবর্তন জরুরি। আজকের এই অদম্য নারীরা আমাদের অনুপ্রেরণা, শক্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবেন।”
শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী রুপা মল্লিক রুপু,অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জন কারী ফাতেমা খাতুন, সফল জননী নারী শান্তি প্রভা চাকমা
সংবর্ধনা পেয়ে "অদম্য" নারীরা বলেন শত বাঁধা পেড়িয়ে আজকের এই অবস্থানে এই সংবর্ধনা হোক প্রতিটি নারীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, বেগম রোকেয়া অবরোধ প্রথা, অন্যদিকে অশিক্ষার অভিশাপ-এমনি এক সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠেন। নিজের আগ্রহে ও উদ্যোগে শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং বুঝেছিলেন প্রকৃত শিক্ষার মধ্য দিয়ে নারী তার অাপন শক্তি খুঁজে পাবে। আজীবন নারী শিক্ষা এবং অবরোধ প্রথার বিরুদ্ধে এবং নারী পুরুষের সমান অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছেন তিনি। জীবনের সকল সম্পদ-সম্পত্তি ও মেধা দিয়ে নারী জাগরনের জন্য লড়াই করেছেন। অন্যান্য বক্তারা সভা থেকে বেগম রোকেয়ার সংগ্রামী চেতনাকে ধারন করে নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নারী পুরুষ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
৩ জন অদম্য নারীর হাতে সম্মাননা স্বারক ও নদপত্র;
আলোচনা সভা শেষে জেলা পর্যায়ে “অদম্য নারী পুরস্কার” কর্মসূচির আওতায় তিনজন সাহসী ও সংগ্রামী নারীকে সম্মাননা স্বারক ও সনদ প্রদান করা হয়। তারা হলেন—সফল জননী নারী: শান্তি প্রভা চাকমাশিক্ষা ও চাকরুরীতে সাফল্য অর্জনকারী নারী: রূপা মল্লিক রূপু,অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী: ফাতেমা খাতুন। তাদের জীবনের সংগ্রাম, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার গল্প উপস্থাপনা হলে উপস্থিত সবাই অভিভূত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ,বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিয়া,সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের
দুর্নীতি দমন কমিশন (রাঙামাটি)–এর সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ,জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি এডভোকেট জসীম উদ্দিন মজুমদার। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
নারীর অগ্রযাত্রায় সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন- বক্তারা; আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,“নারীর ক্ষমতায়ন কেবল নিয়ম-কানুন বা নীতিমালায় সীমাবদ্ধ নয়; বাস্তবে নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সুরক্ষা এবং পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতা প্রয়োজন।”
বক্তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষ্যে খাগড়াছড়িতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান নারীর অধিকার, সমতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অদম্য নারীদের জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পকে আরও দৃঢ়ভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, নিরাপত্তা ও সহিংসতা প্রতিরোধে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.