নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার ছাত্রশিবির নেতা রেজওয়ান হোসেন ‘গুম’ হওয়ার ৯ বছর পর ফের আলোচনায় এসেছে সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
বুধবার (১৫ অক্টোবর-২০২৫) দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তদন্ত করেন ঘটনাস্থলে।
ট্রাইব্যুনালের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বেনাপোল এলাকায় গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে গণশুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল দুপুর ১২টায় বেনাপোল জামে মসজিদের পাশ থেকে বেরিয়ে দুর্গাপুর ভূমি অফিসের সামনে পৌঁছালে রেজওয়ান হোসেনকে তুলে নিয়ে যায় বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই নুর আলম—এমন অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের। স্থানীয় এক চায়ের দোকানির সামনেই তাকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ রেজওয়ান।
গুম হওয়ার সময় ইতিহাসে অনার্সে অধ্যয়নরত রেজওয়ান ছিলেন বেনাপোল পোর্ট থানার ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক। সেই সময়ে বারবার থানায় ধর্ণা দিয়েও একমাত্র ছেলের কোনো খোঁজ পাননি পিতা মিজানুর রহমান। এমনকি থানার তৎকালীন ওসি অপুর্ব হাসান ও তদন্ত কর্মকর্তা শামীম খন্দকারের পা ধরেও ফেরেননি কোনো আশার খবর নিয়ে।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যশোরের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন মিজানুর রহমান। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তৎকালীন ওসি অপুর্ব হাসান, তদন্ত কর্মকর্তা শামীম খন্দকার ও এসআই নুর আলমকে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে গুম করে হত্যা করা হয়েছে।
জানা গেছে, মামলার পর থেকেই অপূর্ব হাসান পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শামীম খন্দকার ও নুর আলম এখনো চাকরিতে বহাল রয়েছেন।
বুধবার তদন্তকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কাছে সরেজমিনে সাক্ষ্য দেন রেজওয়ানের চাচা আবু মুছা, চাচাতো ভাই রিপন হোসেনসহ আরও অনেকে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে দিনভর সাক্ষ্য নিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রিপোর্ট শাখায় জমা দেওয়া হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.