আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হলো। এই দুই বছরে গাজা উপত্যকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, নিহত হয়েছেন ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। খাদ্য ও ত্রাণের সংকটে এখন চরম দুর্ভিক্ষের মুখে উপত্যকার বাসিন্দারা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল, যা দুই বছর পরও অব্যাহত রয়েছে। হামাসকে নির্মূলের নামে এই অভিযানে ধ্বংস হয়ে গেছে হাসপাতাল, স্কুল ও হাজারো বসতবাড়ি।
সর্বশেষ, মিশরের শারম আল-শেখে দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চেয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তারা বলছে, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বাস্তব গ্যারান্টি ছাড়া কোনো চুক্তি কার্যকর হবে না।
একই সঙ্গে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির সময়সূচি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হামাসের দাবি, শেষ ধাপের জিম্মি বিনিময়ের সময়ই গাজা থেকে শেষ ইসরায়েলি সেনাকে ফিরিয়ে নিতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশর। বুধবারের তৃতীয় দফা আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীও যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসে যুদ্ধের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গাজা সংকট সমাধানে একটি “বাস্তব সম্ভাবনা” তৈরি হয়েছে। তার প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অধীনে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় নিয়ে এই আলোচনাগুলো এগোচ্ছে।
তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাস ৪৮ জন ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি দিলে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন বন্দি এখনও জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি সরাসরি সেনা প্রত্যাহারের অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত থাকবে। “শেষ বন্দি মুক্তির সময়ই গাজা থেকে শেষ সৈন্য ফিরতে হবে,” তিনি বলেন।
হামাসের প্রধান আলোচক খালিল আল-হাইয়া বলেন, “আমরা দখলদারদের এক সেকেন্ডের জন্যও বিশ্বাস করি না। আমরা চাই যুদ্ধ একবার বন্ধ হলে, সেটি যেন আর কখনও শুরু না হয়—এর জন্য বাস্তব নিশ্চয়তা প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে বলেন, “গত দুই বছর ছিল আমাদের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যতের জন্য এক লড়াই।” তিনি ইঙ্গিত দেন, হামাসের শাসন পুরোপুরি নির্মূল ও সব বন্দির মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।
এদিকে, আলোচনার মধ্যেই গাজায় অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা। মঙ্গলবার গাজা সিটির সাবরা ও তাল আল-হাওয়া এলাকায় বোমাবর্ষণে অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।
গত শুক্রবার থেকে, যেদিন ট্রাম্প ইসরায়েলকে বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানান, তখন থেকে অন্তত ১০৪ জন গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদক হিন্দ খুদারি জানান, পূর্ব গাজায় এক কিশোর মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন এবং খান ইউনিসে পৃথক হামলায় আরও ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সবাই শান্তিচুক্তির আশায় অপেক্ষা করছে, অথচ বোমা পড়া থামছে না। ইসরায়েলি বাহিনী এমনসব এলাকা ধ্বংস করছে, যেখানে মানুষ ফিরতে চেয়েছিল নতুন করে জীবন শুরু করতে।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা ACLED জানায়, দুই বছরে গাজায় ১১ হাজারেরও বেশি বিমান ও ড্রোন হামলা এবং ৬ হাজারের বেশি কামান ও গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংঘাতে নিহতদের ১৪ শতাংশই গাজার মানুষ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১,৭০১ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.