খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি।। খাগড়াছড়িতে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের নৃশংস ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পাহাড়ি জনপদ। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে “জুম্ম ছাত্র জনতা” ব্যানারে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শহরের বিভিন্ন সড়কজুড়ে চলে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের গর্জন ছিল “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ কর”, “ন্যায়বিচার চাই, এখনই চাই”।
বিক্ষোভ মিছিলটি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে চেঙ্গী স্কয়ার, মহাজনপাড়া, আদালত সড়ক, নারকেল বাগান হয়ে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদী সমাবেশ।
নেপোলিয়ন চাকমার সঞ্চালনায় ও সাধারণ শিক্ষার্থী উক্যেনু মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন – সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সুমন চাকমা, বাগীশ চাকমা, কৃপায়ন ত্রিপুরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের প্রতিনিধি আকাশ ত্রিপুরা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নারী প্রতিনিধি ওয়াপাই মারমা, সাধারণ শিক্ষার্থী উ্যকনু মারমা প্রমুখ।
ধর্ষকদের গ্রফতারসহ তিন দফার আলটিমেটাম:
সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন –
১. ২৫সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ।
১.পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে নারী সমাবেশ।
৩.জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বর্জন।
বক্তারা বলেন, “আমরা আর ধৈর্য ধরব না। নারী ও শিশুর প্রতি এ নৃশংসতা আর সহ্য করা হবে না। প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, তবে পাহাড়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামবে।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পিতা জানান, “প্রতিদিনের মতো মেয়েটি সন্ধ্যার সাড়ে ৬টার দিকে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল। প্রতিদিন রাত ৯টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু গতকাল (মঙ্গলবার) সাড়ে ৯টার পরও ফিরেনি। শিক্ষকের বাসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ক্লাস আগেই শেষ হয়েছে। এরপর পরিবার ও প্রতিবেশীরা মিলে খোঁজ শুরু করি। রাত ১১টার দিকে স্থানীয় একটি ক্ষেতে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
চিকিৎসাধীন মেয়েটির অবস্থা এখনও গুরুতর বলে জানা গেছে। পরিবার দাবি করেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বাতেন জানান, “শিক্ষার্থীর পিতা অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। ঘটনার পর ভোরে শয়ন শীল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি দুইজনকেও আটকের চেষ্টা চলছে।”
ওসি আরও বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থী, নারী অধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় অপরাধীরা বারবার সাহস পাচ্ছে। “ধর্ষণের শাস্তি দ্রুত কার্যকর না হলে এই ভয়াবহতা কখনো থামবে না,” বলেন বক্তারা।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘোষিত সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি শহরে বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় তাকিয়ে আছে প্রশাসনের দিকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.