সাঈদ ইবনে হানিফ, বাঘারপাড়া (যশোর) : দুই উপজেলার ১৫ টি গ্রামের মানুষের নিত্যনৈমত্তিক যাতায়াতের ক্ষেত্র ছিল (চিত্রানদীর) তৈরি বাঁশের সাঁকো।
সম্প্রতি সেটিও ভেঙে পড়ার কারণে পারাপারের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে বাঘারপাড়া ও শালিকা উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ। ফলে ভেঙে যাওয়া বাসের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে তারা।
খবর নিয়ে জানা গেছে, যশোর ও মাগুরা জেলার বাঘারপাড়া ও শালিখা দুটি উপজেলার মানুষের নিত্য নৈমিত্তিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে হিসেবে স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিদের উদ্যোগে চিত্রা নদীর উপর নির্মাণ করে একটি বাশের সাঁকো।
সম্প্রতি সেই বাঁশের সাঁকোটি পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন, উভয় উপজেলার প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ।
সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় অনেকে ভেলায় করে নদী পারাপার হচ্ছেন। এতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা। যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার উত্তর প্রান্তের খানপুর গ্রামের সাথে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার হরিশপুরের মাঝে চিত্রা নদীর উপর তৈরি করা হয়েছিল বাঁশের সেতু।
এই দুই উপজেলার মানুষ কে দীর্ঘ বছর ধরে বিভক্ত করে রেখেছিল যে চিত্রা নদী, সেই চিত্রা নদীর উপর একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দুই প্রান্তের মানুষের মধ্য যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করতে চেয়েছিল এলাকার কিছু সচেতন সামাজিক ব্যক্তিত্ব। প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ ও ৪ ফুট চওড়া এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ১৫টি গ্রামের মানুষ পারাপার হত। সম্প্রতি সাঁকো টি ভেঙে পড়ায় ক্ষেত্রপাড়া, পাঠানপাইকপাড়া, খানপুর, হরিশপুর, পাঁচকাওনিয়া, আড়–য়াকান্দির গ্রামবাসী নদী পারাপারে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয়রা বলেন, বাঘারপাড়া ও শালিখা দুটি উপজেলার মধ্যে চিত্রা নদীতে একটি ব্রিজের অভাবে হাজারো মানুষের বিড়ম্বনা রয়েছে দীর্ঘদিনের। এটি না হওয়ায় উভয় পাড়ের ১৫টি গ্রামের মানুষকে প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়তে হয়। এতদিন যে বাঁশের সাঁকোটি ছিল তাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা সেটিও ভেঙে গেছে।
শালিখা উপজেলার দক্ষিণ সীমানা চিত্রা নদীর উত্তর পাড়ের হরিশপুর গ্রামের সাথে দক্ষিণ পাড়ে খানপুর শিববাড়ির ঘাট। এখান থেকে নদীর একটি শাখা বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা, বন্দবিলা, গাইদঘাট, সীমাখালী ও নারকেলবাড়িয়ার মধ্যে দিয়ে মাগুরার শালিখা উপজেলার পুলুমে কাজলা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ডান দিকের শাখাটি বাঘারপাড়া উপজেলার বিল জলেশ্বরের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে দুই পাড়ের (জনপদ) বছরের পর বছর ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তাদের নিত্য যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি বহু বছর ধরে। অথচ, স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রম হলেও তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি আজও। বাসার সাঁকো ওপারে, ঘাটের পাড়েই খানপুর বাজার, একটু দুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে কয়েক‘শ শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্কুল মাদ্রাসায় যাওয়া আসা করে থাকে। এখানকার বাসিন্দাদের এমন দুভোর্গ লাঘবে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্যে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের কাছে বার বার আবেদন করলেও ফলাফল শুন্য।
খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার মন্ডল জানান, নদীর বিপরীত পাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে তার স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী আসা-যাওয়া করে । কিন্তু, বাঁশের সাঁকোটি পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারছেনা। একই অবস্থা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাশের মাদরাসার শিক্ষার্থীদের।
বাজার কমিটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস জানান, সপ্তাহে দু’দিন শুক্র ও সোমবার হাট বসে। নদীর উত্তর পাড়ের শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে আসেন এ হাটে। এছাড়া কয়েকশ শিক্ষার্থী পারাপার হয় এ সাঁকো দিয়ে।
দুই পাড়ের মানুষের জমি চাষাবাদ করতে হয় দুই প্রান্তের মাঠে। এসমস্যা সমাধানের জন্যে এলাকাবাসী সরকারের কাছে চিত্রা নদীর উপর একটি সেতু নিমার্ণের দাবি জানান।
এবিষয়ে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.