নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতীয় উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের বেনাপোল-শার্শা সীমান্ত এলাকা। ইছামতি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে দৌলতপুর, পুটখালীসহ আশপাশের গ্রামের রাস্তাঘাট ও শত শত একর ফসলি জমি। এতে ভেসে গেছে আমনের বীজতলা, মাছের ঘের ও পুকুর। চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট-২০২৫) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দৌলতপুর ও পুটখালী এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, উজান থেকে আসা পানির তোড়ে সীমান্ত নদী ইছামতির পাড় উপচে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে রয়েছে ফসলি জমি ও বাড়িঘরের আঙিনায়। রাস্তা-ঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে জনসাধারণের চলাচল।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জানান, "প্রতিবছর বর্ষা এলেই ইছামতির পানি ভারত থেকে এসে এভাবে ঢুকে পড়ে। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কয়েক শত একর আমন ধানের জমি ডুবে গেছে। মাছের ঘের, পুকুর, আখের ক্ষেত—সব কিছুই পানিতে তলিয়ে গেছে।"
দৌলতপুর গ্রামের কৃষক নেদা আলী বলেন, "আমরা আমন ধান রোপণ করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ পানি এসে সব ডুবিয়ে দিয়েছে। শত শত কৃষক এখন নিঃস্ব। সরকার যদি পাশে না দাঁড়ায়, আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।"
পুটখালীর আমিন উদ্দিনের কথায় ফুটে ওঠে সীমান্ত কৃষকের কষ্টের চিত্র—
"রাজগঞ্জে আমার মাছের ঘের ছিল। সব ভেসে গেছে। শুধু আমি না, আশপাশের সবার একই অবস্থা। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে আর কুলাতে পারছি না।"
শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ঠেঙ্গামারী ও আওয়ালী বিল এলাকাও পানির নিচে। সেখানে প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। গোগা, শান্তিপুর, বাইকোলা, গাজীরপাড়, পাচকায়বা ও ভবানীপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমিতে এখন শুধুই পানি আর হতাশার ছাপ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না হলে আমন মৌসুমে তারা ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছেন না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.