নুরতাজ আলম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে পরপর তিন অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১৪ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার টাকা। এই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১,১২২ কোটি ৪১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৯০৭ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা- যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৯.১২ শতাংশ কম।
প্রতিমাসের হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, বেশিরভাগ মাসেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। যেমন- জুলাই ২০২৪- লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ কোটি ৩৭ লাখ, আদায় ৬০ কোটি ২০ লাখ- ঘাটতি ৭ কোটি ১৬ লাখ। আগস্ট- ঘাটতি ২৫ কোটি ৬০ লাখ। সেপ্টেম্বর- ঘাটতি ৪৪ কোটি ৯৫ লাখ। অক্টোবর থেকে এপ্রিল- ধারাবাহিকভাবে বড় অংকের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। মে মাসে ব্যতিক্রম- এ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আদায় হয়েছে ১৯ কোটি ৮৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা। জুন ২০২৫- ভয়াবহ ঘাটতি ৫৮ কোটি ২৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ১৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ৪১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়। ফলে তিন বছর ধরে সোনামসজিদ বন্দরে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব ঘাটতির প্রধান কারণ আমদানি-রফতানিতে ধীরগতি এবং বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন। বিশেষ করে ফল, কৃষিপণ্য, পাথর এবং অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
আমদানিকারক তরিকুল ইসলাম জানান, ডলার সংকটের কারণে এলসি করতে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি।
অন্য এক ব্যবসায়ী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংকগুলো অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের এলসি ইস্যু করতে চায়নি। ফলে এসব পণ্য আমদানি হয়নি, রাজস্বও কম এসেছে।’
সোনামসজিদ কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নুরুল হাসান বলেন, ‘চলতি বছর আলু, পেঁয়াজ, গুড়সহ গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য আমদানি হয়নি। দেশে উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমদানির প্রয়োজন পড়েনি। এছাড়া বেশি রাজস্ব মানে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ- এটি কমানো সরকারের একটি কৌশল।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.