প্রদীপ কুমার রায় : ভারত সরকারের নতুন আমদানি নির্দেশিকার জেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সীমান্ত এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক।
যার ফলে এশিয়ার বৃহত্তম স্থলবন্দর ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ। রেডিমেড গার্মেন্টস ও পাটজাত দ্রব্যের মতো একাধিক পণ্যের আমদানি এখন থেকে স্থলবন্দর নয়, বরং জলপথে করার নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্র। যার ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এশিয়ার বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোল।
দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়ে এসেছে। পণ্য লোডিং-আনলোডিং, গোডাউন সংরক্ষণ, ক্লিয়ারিং প্রক্রিয়া-সহ নানা স্তরে কাজ করে আসছিলেন কয়েক হাজার মুটে-মজদুর ও সাধারণ শ্রমিক। নতুন নির্দেশিকা জারির পর থেকে আমদানি পণ্যের পরিমাণ ব্যাপক ভাবে হ্রাস পাওয়ায়, রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সকালে শ্রমিকদের উদ্যোগে পেট্রাপোল বন্দরের সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ কর্মসূচি।
কর্মসূচিতে অংশ নেন একাধিক রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা, পাশাপাশি ক্লিয়ারিং এজেন্ট ও এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও। তাঁদের দাবি, সরকারের এই সিদ্ধান্তে লাভবান হচ্ছেন কেবলমাত্র বড় শিল্পপতিরা, আর বিপাকে পড়ছেন হাজারো সাধারণ শ্রমিক যাঁদের সংসার চলে এই সীমান্তকে ঘিরে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, 'মুম্বইয়ের জলবন্দর দিয়ে আমদানিতে হয়তো ব্যবসার গতি ত্বরান্বিত হচ্ছে, কিন্তু তাতে এখানকার সাধারণ শ্রমিকদের কাজ যাচ্ছে।
সরকার শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দিকে না দেখে, যাঁরা মাঠে ময়দানে কাজ করেন, তাঁদেরও দেখার দায়িত্ব সরকারের।' শ্রমিকদের দাবি, অবিলম্বে স্থলবন্দর দিয়ে আগের মতো পণ্য আমদানি শুরু করতে হবে এবং সীমান্ত অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষদের কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে। দাবি না মানলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ আব্দুল মুননাফ , ই-মেইল: ই-মেইল নং : gsongbad440@gmail.com , মোবাইল-০১৭১১-৩৫৯৬৩১
Copyright © 2026 gramersongbad.com. All rights reserved.