যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পরিচালকসহ আটক ১৪

যশোর প্রতিনিধি : যশোর শহরের রেল রোডে অবস্থিত মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুর্নবাসন কেন্দ্রে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওই কেন্দ্রের পরিচালকসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। যশোর কোতোয়ালী থানা পুলিশের কয়েকটি টিম শনিবার থেকে রবিবার ভোররাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এদেরকে আটক করে।

রবিবার দুপুরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে কেন্দ্রের মধ্যে মারপিটসহ অমানবিক নির্যাতনে যুবক মাহফুজুর রহমানকে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা হত্যা করেন বলে অভিযোগ। মাহফুজুর রহমান চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামানের ছেলে।

তিনি জানান, মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ জীবনের আশায় মাত্র একমাস আগে যশোরের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে সন্তানকে দিয়েছিলেন। শনিবার মাহফুজুর রহমানের (২০) মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে যশোরে আসেন মনিরুজ্জামান। পরে তিনি জানতে পারেন, ছেলেকে ওই কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠানের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে হাসপাতালে রেখে গেছে অজ্ঞাত হিসেবে।

কোতোয়ালী থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনা জানার পরে রাতে প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাওয়া গেছে- মাহফুজকে মারপিট করে হত্যা করা হয়েছে। মারপিটের কারণে সে মলত্যাগ করে ফেলে। তখন মাহফুজকে দিয়েই ওই মল পরিস্কার করানো হয়।

তিনি বলেন, পুলিশের পৃথক কয়েকটি টিম সারারাত অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পূর্ববারান্দীপাড়ার বাসিন্দা আবুল কাসেমের ছেলে মাসুম করিম ও কর্মকর্তা বারান্দীপাড়া বটতলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশরাফুল কবির, রেজাউল করিম, ওহেদুজ্জামান, ওহিদুল ইসলাম, আল শাহরিয়া, শাহিন, ইসমাইল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, এএসএম সাগর আলী, অহেদুজ্জামান সাগর, নুর ইসলাম, হৃদয় ওরফে ফরহাদ ও আরিফুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তন্ময় বিশ্বাস বলেন, শনিবার দুপুরে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে একটি মৃতদেহ জরুরি বিভাগে আনা হয়। মরদেহ বহনকারী ও নিহত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ না করে তারা কৌশলে হাসপাতাল ত্যাগ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *