৬০ হাজার বছর আগের ডিএনএ’র কারণে ‘ভাইরাসে ঝুঁকি কম’ বাংলাদেশিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রায় ৬০ হাজার বছর আগে যে ডিএনএ’র বিস্তার ঘটেছিল, তার সঙ্গে কভিড-১৯ রোগের (বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে) একটা যোগসূত্র আছে বলে জানিয়েছে সুইডেনের স্টকহোমের বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউট। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই ধরনের ডিএনএ’র কপি বাংলাদেশের মানুষের বেশি। অন্তত একটি করে কপি আছে বাংলাদেশের ৬৩ শতাংশ মানুষের। তবে যাদের শরীরে এর দুটি কপি থাকে তারা অন্যদের তুলনায় তিনগুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষকেরা এও জানিয়েছেন, এই ডিএনএ’র আদি ভার্সন (প্রস্তর যুগের ) ক্ষতিকর হলেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় যেটি দেখা যায় তা যেকোনো ভাইরাস প্রতিরোধে আরও বেশি কার্যকরী হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ডিএনএ’র কারণে কভিড-১৯ সংক্রান্ত গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ডিএনএ’র নির্দিষ্ট এই অংশ কীভাবে করোনাভাইরাসের অসুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো পরিষ্কার ধারণা পাননি। শুক্রবার গবেষণাটি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বিজ্ঞান বিষয়ক পাতায় এ নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গবেষণার ফলাফল এখনো শীর্ষস্থানীয় কোনো জার্নালে আসেনি।

গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত না থাকা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ জোশুয়া আকি এই ফলাফলকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘শঙ্কর প্রজননের ৬০ হাজার বছর আগের এই প্রভাব আজও মানুষের শরীরে কাজ করতে পারে।’

জিনোমের এই অংশ ক্রোমোজোম ৩-এ ছয়টি জিনে ছড়িয়ে থাকে। যাকে গবেষকেরা মানব ইতিহাসের ‘ধাঁধাময় ভ্রমণ’ বলেছেন।

টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ উত্তরাধিকার সূত্রে অংশটি পেয়ে থাকে।

তবে গোটা পৃথিবীর তুলনায় এই ধরনের ডিএনএ খুব একটা দেখা যায় না। ইউরোপে ৮ শতাংশ, পূর্ব এশিয়ায় মাত্র চার শতাংশ। আফ্রিকায় নেই বললেই চলে।

নতুন এই গবেষণায় ক্যারোলিনস্কা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী হুগো জেবার্গ যুক্ত ছিলেন। তিনি বলছেন, ‘কোন বিবর্তনীয় প্যাটার্ন ৬০ হাজার বছর ধরে এটি উৎপন্ন করছে সেটি পরিষ্কার নয়। এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। ’

৬০ হাজার বছর আগে আধুনিক মানুষের কিছু পূর্বসূরি আফ্রিকা থেকে বেরিয়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় বসতি গড়েন। তারা প্রস্তর যুগের বিশেষ প্রজাতির মানুষের (Neanderthal) সঙ্গে মিশে যান। তাদের ডিএনএ আমাদের জিন পুলে প্রবেশ করে। এরপর সেটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ধরনের জিন আধুনিক মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এর কারণে নারীদের সন্তান জন্ম দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যার কারণে ক্ষতিকর এই জিনের অধিকারী মানুষেরা ধীরে ধীরে প্রায় বিলীন হয়ে যান।

হুগো জেবার্গ বলছেন, বিবর্তনের ফলে কিছু জিন ‘কমন’ হয়ে গেছে। যা মানুষের শরীরে এখনো আছে।

এশিয়ানরা যেভাবে ঝুঁকিমুক্ত: জেবার্গ মনে করেন, প্রস্তর যুগের ওই মানুষেরা এশিয়া-ইউরোপে আসার পরে নতুন ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। যার বিরুদ্ধে তাদের বিবর্তিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের একটি জরিপে দেখা গেছে, কভিড-১৯ রোগে সেদেশে শ্বেতাঙ্গদের থেকে বাংলাদেশিদের মৃত্যুহার বেশি। এই ডিএনএ’র সঙ্গে দেশটির বাংলাদেশি কমিউনিটির এই পরিণতির অন্য কোনো যোগসূত্র আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন জেবার্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *