স্বাগত ২০২০ : প্রাণসঞ্চারী হোক নতুন সূর্যোদয়

গ্রামের সংবাদ ডেস্ক : কালের পরিক্রমায় আমরা এখন ২০২০ সালের প্রথম দিনে। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন আজ। নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন। বিগত বছরের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির অভিজ্ঞতায় আমরা রচনা করতে চাই নতুন পথরেখা।
নতুন সূর্যোদয়ের রাগে পুরনো বছরের হতাশা, ক্লেদ, গ্লানি ভুলে এগিয়ে যাওয়ার আহবান। নতুন সূর্যোদয়ে নতুনভাবে বাঁচার আশা। স্বাগত ২০২০।
নতুন বছর ঘিরে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা থাকে। থাকে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার ভাবনা। সেসব নিয়ে সাফল্যের পথচলা হবে নিশ্চয়ই। এর সঙ্গে পুরনো বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো ভুলে গেলে চলবে না। সেসবের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেদিকে থাকতে হবে সজাগ খেয়াল।
রাষ্ট্রীয়ভাবেও বছরটি আমাদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ। এ বছর পূর্ণ হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্ম শতবার্ষিকী এবং ২০২১ সাল হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। দুই মাইলফলক সামনে রেখে আমরা মিলিয়ে নিতে চাই মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সমীকরণ।
২০১৯ সাল নানা কারণে ছিল আলোচিত। সবশেষ রাজাকারের তালিকা প্রকাশের পর যে অনাকাংখিত বিষয় সামনে এসেছিল, তা নজির হয়ে থাকল। আমরা যেন এ থেকে শিক্ষা নিই। আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই কাজেকর্মে।
যেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে, নতুন বছরের শুরুতে সেসব কাজে গতি ফিরুক। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি কারোই কাম্য নয়। একটি নতুন বছর নতুন সম্ভাবনার পথ দেখায়। ২০২০ সালটি হোক সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নতুন বছরকে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হবে এই বছর। এ জন্য বিস্তর প্রস্তুতি-আয়োজন আছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে। এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন হোক, কামনা করি।
বঙ্গবন্ধুকে আরও ব্যাপকভাবে দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে, তার চেতনাকে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন ছিল। আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আরও দৃঢ় করতে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন সম্পর্কে আরও জানতে হবে, জানাতে হবে। তাকে নিয়ে চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
বর্তমান সরকারের ক্ষমতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অতীতের যেকোনো সময়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। দিন ফিরছে মানুষের। দক্ষিণের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান। এটি আমাদের বড় অর্জনের একটি বড় নজির। নিজেদের টাকায় এত বড় প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, এই বার্তা পৌঁছে গেছে বিশ্বময়।
ধ্বংস থেকে সৃষ্টির নেশায় ছুটে চলা মানুষের মনে সাহস জোগায় ভোরের সূর্য। ২০২০ সাল আমাদের হৃদয়ে সেই প্রাণের সঞ্চারী হোক, এটাই প্রত্যাশা।
গ্রামের সংবাদ পরিবার এর পক্ষ থেকে সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *