স্বপ্ন পুড়ে ছাই, সব হারিয়ে নিঃস্ব তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সেনাকল্যাণ ভবনের পাশে মাজার বস্তিতে লাগা আগুন দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এই বস্তির হাজারও মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। কোনো রকম জীবন বাঁচাতে পারলেও চোখের সামনে পুড়ে গেছে সহায়-সম্বল। সব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব। বস্তিবাসীর কান্না ও হাহাকারে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোররাতে লাগা আগুন প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট। তবে পুরো বস্তু যেন এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পু্ড়ে যাওয়া আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

বস্তিবাসী জানান, গেল রাত ৩টার দিকে ওই বস্তির একটি কক্ষ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তে আগুন আশপাশের বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বস্তিবাসীর মধ্যে। তারা ছোটাছুটি করতে থাকেন। হঠাৎ লাগা আগুনে হতবাক বস্তিবাসী জীবন বাঁচাতে পারলেও চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তাদের আসবাবপত্র ও মালামাল। অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে।

আগুনে হাজারের বেশি রুম পুড়ে গেছে দাবি করে স্থানীয় ৫৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন সরকার ঢাকা টাইমসকে বলেন, আগুনে বস্তির বেশির ভাগ কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরনের সঙ্গে পরামর্শ করে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

শনিবার ভোরের দিকে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের চেষ্টায় ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা এখন ডাম্পিংয়ের কাজ করছি। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, বস্তিতে হাজারখানেক ঘর ছিল। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক পুড়ে গেছে। ঘরগুলো একটার সঙ্গে আরেকটা লাগালাগি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বস্তিতে ঢোকার মতো রাস্তা না থাকায় আমাদের গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারেনি। বস্তির বাইরে থেকে পানি দিতে হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (অপারেশন) মানিক উজ্জামান ঢাকা টাইমসকে জানান, আগুন লাগার পর টঙ্গী, উত্তরা, সদরদপ্তরসহ আশেপাশের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নয়টি ইউনিট ভোর চারটার দিকে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।আগুনে পাঁচ শতাধিক কক্ষ ও মালামাল পুড়ে গেছে।

আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *