সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন নিজেদের সচেতনা

কোভিড-১৯ এর সংক্রমন ও মৃত্যু কিছুটা কমলেও মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে ডেঙ্গুর উৎপাত বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিদিন দু’শোর অধিক রোগী ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদিকে কোভিড-১৯ এবং ডেঙ্গু এক সাথে হামলা করছে রোগীর দেহে। আবশ্য দু’টিই ভাইরাস জনিত রোগ। এদের উপসর্গে মিল-অমিল রয়েছে এবং দুটিই জটিল আকার ধারন করতে পারে করো কারো শরীরে। এখন অনেকে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হচ্ছেন। এ জন্য অনেকে হাসপাতালে যেতে চাইছেন না। তাই বলে হাসপাতালে রোগীর সংকট রয়েছে বলা যাবে না। বরং রোগীর চাপে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়েছে।

ভাইরাস জনিত এ দু’টো রোগের প্রথম ও প্রধান উপসর্গ হচ্ছে মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি, অবসাদও থাকতে পারে। তবে ডেঙ্গুতে মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, গায়ে ব্যথা তীব্র হয়। এজন্য একে আগে ব্রেক বোন ফিভার বলা হতো। মানে যে জ¦রে শরীরে হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। ডেঙ্গু হলে জ¦রও তীব্র মাত্রায় হয়। ডেঙ্গু জ¦রের দু’তিন দিনের মাথায় শরীরের ত্বকে বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি হতে দেখা যায়। যা সাধারনত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে হয় না। অন্যদিকে কোভিড-১৯ বারবার তার চরিত্র পাল্টাচ্ছে। বর্তমানে যে ধরনটি ছড়িয়ে পড়ছে তাতে জ¦র তীব্র মাত্রার নয়, আবার দীর্ঘ স্থায়ীও নয়। দু’তিন দিনের মাথায় জ¦র সেরে যায়। আবার কোনো জ¦র উপসর্গ ছাড়াও আছেন বিপুল সংখ্যক আক্রান্ত মানুষ। জিভের স্বাদ চলে যাওয়া, নাকে গন্দ না পাওয়া কোভিড-১৯ এর একটি বড় নক্ষণ। তবে তা সবার নাও হতে পারে। কারো কারো পেটে ব্যাথা, ডায়রিয়াও হতে পারে।

আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা না নিয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ দু’টিই প্রতিরোধ যোগ্য রোগ। শুধু প্রয়োজন সচেতনতা। ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মানুষ যখন মরছে। হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ছে, তখন নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। সতর্ক পদক্ষেপে মারাত্মক এ দু’রোগ থেকে নিজেদের বাঁচাতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যায় এডিস মশা নির্মুলের মাধ্যমে সবার জানা। এডিশ মশার ডিম এক বছর পর্যন্ত পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। বৃষ্টি এলে লার্ভা তৈরী করে। তাই পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন অভিযান শুধু বর্ষায় নয়, সারা বছর ধরে চালাতে হবে। রাজধানীর দু’সিটি কর্পোরেশনে বর্ষায় লার্ভা ধ্বংশ করার জন্য নানা অভিযান চালায়, কামান দাগায়। কিন্তু সারা বছর মশা মারতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু লার্ভা ধ্বংশ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে না, মশাও মারতে হবে সমান তালে। কাজেই এদিকে নজর দেওয়া উচিৎ সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করা ডেঙ্গুর মতো অতো কঠিন নয়। চাই একটু সচেতন হওয়া। একটি মাস্ক আর একটি যে কোনো মূল্যের সাবানই সুরক্ষা দিতে পারে আপনাকে আমাকে। কঠোর লক ডাউন উঠে গেছে বলে বেপরোয়া হয়ে অযথা ঘুরবো বা ঘরের বাইরে যাবো এমন চিন্তা থেকে দুরে থাকুন। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরুনো, বেরুলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে চলায় যতœবান হউন। আর সুযোগ পেলেই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। কাজেই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য নিজেরা সচেতন হোন। নিজে বাচুন, অন্যকে বাঁচান। দেশ ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ মুক্ত করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *