সাতক্ষীরায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে দুই নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু

এস এম মহিদার রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরায় চলমান লকডাউনের মধ্যেও গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে দুই নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিকেলে একজন ও উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে, জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৬৮ জন। আর ভাইরাসটির উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরো অন্ততঃ ৩৩২ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে ৩৩ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। যা শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩২১ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৪৩৩ জন। এছাড়া বর্তমানে জেলায় ৮২০ জন করোনা আক্রান্ত রুগী রয়েছেন। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন করোনা আক্রান্ত রুগী ও ২৪৮ জন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর বেসরকারী হাসপাতালে ১৭ জন আক্রান্ত রুগী ও ১১৮ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ৭৭৭ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, চলমান লকডাউনের ২৬ তম দিনেও নানা অজুহাতে মানুষ শহরমুখী হচ্ছেন। হাটে বাজারে এমনকি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কেউই সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখছেন না। করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির পরিবারের লোকজনও স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করছেন। এর ফলে সংক্রমন প্রতিরোধ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীারা। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে খুবই অনীহা লক্ষ্য করা গেছে। চলছে ঢিলেঢালা লকডাউন। শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজার গুলোতে প্রচুর মানুষের ভিড়। ভারি যানবাহন ছাড়া সবই চলছে স্বাভাবিকভাবে। শহরের অধিকাংশ দোকানপাট গুলোতে চলছে চুরি করেই বেচাকেনা। পুলিশের বাধা ও ব্যারিকেডও মানছে না কেউই। যদিও পুলিশ মোড়ে মোড়ে চেকপোষ্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। লকডাউনে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। তবে, লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন মোটর চালিত ভ্যান ও রিক্সা চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষ।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, জনসচেতনতার অভাবে মানুষ লকডাউন লঙ্ঘন করছেন। তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জনসমাগম ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য পুলিশ মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *