শালিখায় নন এমপিও শিক্ষকদের ঈদ কাটবে হতাশা আর দুঃখে

স্বপন বিশ্বাস, শালিখা, মাগুরা ঃ শালিখার নন এমপিও ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুইশতাধিক শিক্ষক কর্মচারী ও ২০টি বিদ্যালয়ের ২০ জন গ্রন্থাগারিকের জীবনে এ বছরও ঈদের আনন্দের পরিবর্তে থাকছে দুঃখের বোঝা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা মন্ত্রী সারা দেশে ১৬২২ টি প্রতিষ্ঠান এমপিও করেন। নানা আন্দোলন ও ঘটনার মধ্যে তিনি বলে ছিলেন প্রতি বছর এমপিও দেয়া হবে। কিন্ত তার সেই কথা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য হয়েই রয়ে গেছে। আর সুখের আশায় বুকবাধা শিক্ষকদের মধ্যে দানা বেধেছে চরম ক্ষোভ আর হতাশা। ক্ষমতার শেষ পর্যায়েও এসে তিনি রক্ষা করতে পারেননি তার বিভিন্ন সময়ে দেয়া প্রতিশ্রুতি। ফলে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রয়ে গেলে এমপিও’র বাইরে। অবশেষে সারা বিশ্ব যখন ঈদ আনন্দ উৎসবে মেতে থাকবে শালিখার এই শিক্ষক কর্মচারীদের মত দেশের প্রায় লক্ষাধিক পরিবার দুঃখ ভরাক্রান্ত মনে ঈদ করবেন। পিতা-মাতা, সন্তানদের জন্য কিছুই করার থাকবে না তাদের। বরং স্ত্রী সন্তানদের নিকট থেকে এমনকি সমাজ থেকেও পাবেন তিরস্কার। স্ত্রী, মা, বাবা, সন্তান যখন ঐ শিক্ষকের কাছে কোন দাবী করবেন তখন তিনি লজ্জায় চুপ থাকবেন। বড়ই দুর্ভাগা কলংকিত জীবন তার। সে না পাচ্ছে অর্থকড়ি, না পাচ্ছে সামাজিক মর্যাদা। শালিখাতে প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে অতি সুনামের সাথে অনেক ক্ষেত্রে এমপিও ভূক্ত প্রতিষ্ঠানের থেকেও ভাল ফলাফল করেও এমপিও ভূক্ত হতে পারছেনা। শালিখার এ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে,হাজরাহাটি কলেজ, মাগুরা কৃষি ইনিষ্টিটিউট, কাজী সালিমা হক বালিকা বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখা, দক্ষিণ শরুশুনা দাখিল মাদরাসা, বুনাগাতী বালিকা বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখা, কুমারকোটা মাদরাসার আলিম শাখা,পোড়াগাছি নিঃ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, সেওজগাতী আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, , বিহারীলাল শিকদার কলেজের ডিগ্রী শাখা। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষকদের প্রশ্ন কি করলে এমপিও হয়?? ফলাফল না রাজনৈতিক বিবেচনা। কোনটি সেটি তাদের বোধগম্য নয়। আর তারা জানেও না কবে নাগাদ তাদের ভাগ্য খুলবে। তবে তারা বড়ই হতাশ কারণ একই সাথে প্রতিষ্ঠান করে কেউ যখন এমপিও বা বেতন পায় আর কেউ যখন পায়না তখন তাদের প্রশ্ন জাগে তারা কি কোন পাপি?? এমনই হতাশা ব্যক্ত করেন আমার এক কলেজ জীবনের বন্ধু যিনি একটি বিদ্যালয়ে ১২ বছর সম্পূন বিনা বেতনে কর্মরত আছেন। তিনি ভাবছেন চাকুরী ছেড়ে ব্যবসায় যাওয়া যায় কিনা। কারণ দীর্ঘ ১৬ বছর বিনা বেতনের চাকুরী করে কাজী সালিমাহক বালিকা বিদ্যালয়ের এক অভাগা চাকুরীর বয়স শেষ করেছেন। আবার অনেকেই চাকুরীর বয়স শেষ করতে চলেছেন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টি দিয়ে দেখার, কারণ অর্থের অভাবের কথা বললেও দেশের অনেক অপ্রয়োজনীয় খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে এটা অনেকেরই জানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *