শার্শায় সরকারিভাবে ২৪৭৯১টি পরিবারে ১০ কেজি করে চাল ও ১১৯৭ জনের মাঝে ৫লাখ ৩৯হাজার টাকা বিতরণ

আসাদুজ্জামান আসাদ।। যশোরের শার্শা উপজেলায় দরিদ্র ও অসহায় লোকজনকে ঈদসামগ্রী দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বৃত্তশালীরা। ঈদসামগ্রী পেয়ে খুশি হয়েছেন গরিব লোকজন।

যশোর-১ (শার্শা) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, “অসহায় মানুষ যেন ঈদ করতে পারে সেজন্য সরকার তাদের ভিজিএফের চাল দিয়েছে।

“সরকারি সহায়তার বাইরে ধনাঢ্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতারাও গরিব-দুঃখী মানুষের হাতে ঈদসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন, যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে পারেন।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর আলিফ রেজা জানান, এই উপজেলায় সরকারিভাবে ২৪ হাজার ৭৯১ জন দুঃস্থ-অসহায় পরিবারে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ১৭০ জন ও বেনাপোল পৌরসভায় ৪৬২১ জনকে ১০কেজির ওই চাল দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লাল্টু মিয়া বলেন, ভিজিএফের চালের বাইরে চাল ডাল তেল লবন ও নুডুলস এর সমন্বয়ে প্যাকেট করে উপজেলার ১হাজার ১৯৭টি দুঃস্থ-অসহায় পরিবারের মাঝে ৫লাখ ৩৯হাজার টাকার অনুদান বিতরন করা হয়েছে।

জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ এসএম ইব্রাহিম খলিল বলেন, করোনাকালিন সময়ের এই ঈদে সরকারি সহায়তায় পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে শার্শা উপজেলার অন্তত ৫০হাজার অসহায় দরিদ্র পরিবার ঈদ সামগ্রী পেয়েছেন। ঈদসামগ্রী পেয়ে খুশি হয়েছেন অনেক অসহায় মানুষ।

বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের রজব আলির স্ত্রী কহিনুর বিবি (৭৫) বলেন, দশ বছর হলো খুকার বাপ মরে গেছে। এরপর আর জীবনে ঈদ আসিনি। ঈদ আর অন্য দিনের মদ্দি কোনো তফাত বুঝিনি। “এবার ঈদে সব পাইছি। শেখের বেটি এবার সব করিছে।”

জামতলার আব্দুর রহিমের (৬৫) সব সুখ কেড়ে নিয়েছে ক্যান্সার। তিনি নিজে কাজ করতে পারেন না। তার স্ত্রী হোটেলে কাজ করে যা পান তা দিয়েই চালাতে হয় সংসার। সরকার বয়স্কভাতা দেয় বটে, তা দিয়ে ওষুধ কিনতে হয় বলে জানান রহিম। এবার তারা বহুদিন পর ঈদ করবেন বলে জানান।

বাস্তুহীন তাসলিমা ভাড়া বাসায় থাকেন। অন্যের বাড়ি কাজ করে জীবিকা চালান। ৫৫ বছর বয়সী এই নারীর কোনো স্বজন নেই।

সাতমাইল গ্রামের ৭০ বছর বয়সী সহরবানুকে দেখার কেউ নেই। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল,ডাল,তেল ও সেমাই-চিনি নুডুলস পেয়ে খুব খুশি।
বেনাপোল গ্রামের জুলেখা বেগম(৫৫) বলেন, লোকের বাড়ি কাজ কত্তাম।করোনায় কাজ হারাইছি।খুব অসুবিধায় দিন কাটাচ্ছি। দু’বেলা ভাত জুটাতি পারিনে তারপর আবার সেমাই চিনি কেনবো কি করে। এবার চাল পাইছি, সেমাই চিনি পাইছি।এতে আমি খুব খুশি।

টেংরা মাঠপাড়ার ভ্যানচালক রুহুল আমিন (৬৫) ও তার স্ত্রী জামিরন নেছা খুকির (৫৫) একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে দু’বছর। তাদের ছেলে নেই। এখন কাজ করে জীবিকা চালানো তাদের জন্য কঠিন। খুকি বলেন, “এবার ঈদটি নতুন করে অ্যায়েছে। অনেক বছর ঈদ আসেনি। এবার ঈদে সেমাই, চিনি, চাল,টাকা পাইছি।”

বসতপুর গ্রামের সুরুজ মিয়ার বিধবা স্ত্রী মঞ্জুরা বিবি (৭৫) বলেন, “ছেলেরা ভ্যান চালায়, তাদের তাই চলে না। তারা আমারে দেখপে কী করে? শেখ হাসিনার দেওয়া বিধবা ভাতা পাই, মাসিক চাল পাই, তা দিয়ে চলে। এবার ঈদি সব পাইছি। শেখ হাসিনা বেঁচে থাক এই দুয়া করি।”

বাগআচড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ইউনিয়নের ২৬০০ পরিবারের মাঝে ১০কেজি চাল, ৫০০ গ্রাম ডাল, ১কেজি আলু দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে পাওয়া গেছে ২৩৫৭ পরিবারের চাল।বাদবাকি ২৪৩ পরিবারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে খাদ্য সহায়তা দিয়েছি।

বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি সহায়তার বাইরে বেনাপোলের প্রাইভেটকার একতা সমিতির ২০১টি সদস্যের মাঝে এবং ইউনিয়ন ও পৌর শহরের সর্বমোট ১২৬০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শিকড়ি বাহারুননেছা কাশেম আলী হিজবুল কোরান এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী শামছুর রহমান বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে বেনাপোলের শিকড়ী, খড়িডাঙ্গা ও মালিপোতা গ্রামের ৩’শ ৩৫টি অসহায় দুঃস্থ পরিবারের মাঝে ৮’শ টাকা করে ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

টাইগার ক্লাবের সভাপতি বাহার আলী বারু বলেন, ক্লাবের পক্ষ থেকে বেনাপোলের ৩নম্বর ওয়ার্ডে ২০০টি অসহায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী হিসেবে দুই ধরনের সেমাই, চিনি,দুধ,ডালডা, কিসমিস ও বাদাম দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *