শার্শায় নিয়ন্ত্রণহীন মাদক ব্যবসা ; ব্যাপক ধঢ়পাকড়েও থামেনি

সাইদুর জামান রাজা, শার্শা অফিস : সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক ধঢ়পাকড়েও শার্শায় থামেনি মাদক ব্যবসা। ভুক্তভোগী ও সংশ্নিষ্টদের মতে, আটককৃতদের অধিকাংশই খুচরা মাদক বিক্রেতা। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কতিপয় নেতাকর্মীরা গোটা শার্শায় মাদকের বিস্তার ঘটিয়েছে। মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কর্মী সমর্থকদেরও যুক্ত করা হয়েছে মাদক ব্যবসায়।

উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃস্থানীয়রা অবশ্য বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাই তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উত্থাপন করছে। তাদের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের কারণে শার্শার শহর এলাকার মাদক ব্যবসা কিছুটা কমলেও বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে। একে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে শার্শা খুন থেকে শুরু করে কলহ বেড়েই চলেছে।

পুলিশ বলছে, দলমত নির্বিশেষে সবার বিরুদ্ধেই অভিযান চলছে। মাদক ব্যবসায় জড়িত কাউকে পুলিশ ছাড় দিচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, শার্শার উলাশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য আলহাজ আয়নাল হকের ভাই জদ্দিন হোসেন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে রয়েছে ১ ডজনেরও বেশি মামলা। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা জিয়া একজন কুখ্যাত কিলার ও মাদক ব্যবসায়ী। সে নিজেই ইয়াবা ব্যবসার পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তার নামে রয়েছে হাফ ডজনেরও বেশি মাদক ও হত্য মামলা। শার্শার দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামের দুই সহদর ভাই আয়নাল ও জয়নাল। যাদের নামে রয়েছে ২ ডজনের বেশি মাদকের মামলা। তারা শার্শার শীর্ষ আওয়ামীলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে। এরা সকলেই পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। অথচ তারা দিব্বি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের নামে কোন কোন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও সাংবাদিকরা আওয়ামীলীগের নেতৃস্থানীয়দের রোসানলে পড়তে হয়।

সম্প্রতি শার্শার উলাশী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র একটি খুন হয়েছে। পুলিশ বলছে পরকিয়ার কারনে এ খুন হতে পারে। কিন্তুঐ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ নাম না প্রকাশের সর্তে বলেছেন, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ খুন হয়েছে। খুনি আলমের এক ভাই অতি দুঃখের সাথে বলেছেন, আমার ভাই অতি ভাল ছিল। কিন্তু এ গ্রামের আওয়ামীলীগের উঠতি নেতাদের কারনে ভাইটা খারাপ হয়েছে। এবং মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

অপর এক বর্ষিয়ান আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, গ্রামে অনেক গন্যমান্য মানুষ আছে। কিন্তু তাদেরকে বাদ দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ এ মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেন। যার ফলে গ্রামে অতি শিগ্রই মাদকের প্রসার ঘটতে শুরু করে। শুধু পুরুষরা নয় এখানে নারীরাও মাদকের আড়ৎ খুলে বসেছে। বাইরের এলাকা থেকে প্রতিদিনই মটরসাইকেলে করে এ গ্রামে মাদক কিনতে শত শত মাদকসেবী আসে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ এ গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রয় ও সেবন করলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থ্যার কোন প্রয়োগ নেই। মাদক সেবনের ফলে এ গ্রামের অধিকাংশ যুবক রোগাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

সম্প্রতি এ গ্রামে একটি খুন হয়। যার নাম ই¯্রাফিল। সে দুটি মাদক মামলার আসামি। আর খুনের আসামীরা সকলেই গ্রামে আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে গত ৪ বছর ধরে। নেতত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই তারা জড়িয়ে পড়ে মাদক কারবারের সাথে। হঠাৎ করে শ্রমিক থেকে তারা লাখো পতি বনে গেছেন। খুনের সাথে জড়িতরা মাত্র ৩জন আটক হলেও অন্যরা রয়েছে গাঁ ঢাকা দিয়েছে। যারা অধিকাংশ মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত। এদের মধ্যে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বোমা আজিজ।

ঘনিষ্ট একটি সুত্র জানান, ই¯্রাফিল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মোর্সারফ একজন বিড়ি শ্রমিক। যার অবস্থা ছিল দিন আনা দিন খাওয়ার মত। সে আ,লীগের নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি বাইকে করে দিনের সর্বসময় ঘুরে বেড়াত। এ সময় তার সফর সঙ্গী থাকত বোমা আজিজ। আর এদের সকলে দিনের বেশির ভাগ সময় দেখা যেত অপর খুনের অভিযুক্ত মর্জিনার বাড়িতে। এরই সুবাদে মোর্সারফ ও বোমা আজিজ হয়ে ওঠে লাখোপতি।

এলাকাবাসী জানান, এ গ্রামের রয়েছে একাধিক বাগান রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন বসে মাদক জুয়ার আসর। যার পরিচালনায়ও রয়েছে তাদের সংশ্নিষ্টতা।

সুত্র জানায়, মোর্সারফ সহ তার সহযোগীরা শার্শার দক্ষিন বুরুজবাগান গ্রামের আয়নাল ও জয়নালের কাছ হতে মাদকের বড় বড় চালান পাচার করতো। আর এদের প্রধান ছিলেন ই¯্রাফিল হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী মর্জিনা বেগম।

এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু বলেন, আওয়ামীলীগের কেহ মাদকের সাথে সম্পৃক্ত নেই। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কেহ যদি মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে তাকে দল ছাড় দিবে না। আমরা মাদক মুক্ত সুন্দর একটি সমাজ চাই। তাতে প্রয়োজনে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেয় হবে।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *