শার্শায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতায় মাঠে এমপি আফিল উদ্দিন

আব্দুল্লাহ আল-মামুন, স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে জনসচেতনতায় মাঠে নেমেছেন সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার তিনি উপজেলার উলাশী, বাগআঁচড়া, কায়বা ও গোগা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে যান। সহিংসতায় আহত নারী-পুরুষের সাথে কথা বলা ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন করেন তিনি। তান্ডব চালানো সন্ত্রাসীদের সতর্ক করে গোগা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভায় বক্তব্য দেন এমপি শেখ আফিল উদ্দিন। এ সময় তিনি বলেন আওয়ামী লীগের আর একজন কর্মীর রক্ত ঝরলে সহ্য করা হবে না।

শার্শা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা তাণ্ডব চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। নির্বাচনে বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের লোক সেজে কৌশলে নৌকার পরাজয়ের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে তারা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বিদ্রোহীদের সাথে আঁতাত করে এলাকায় ফিরে আসে নাশকতা মামলার একাধিক পলাতক আসামি। তাদের সাথে নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় ছিলো বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী পরাজয়ের পর থেকেই ওই সন্ত্রাসীরা গ্রামে গ্রামে তাণ্ডব চালানো শুরু করে। তারা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সাথে মিশে কৌশলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা করছে। তাদের বেপরোয়া তান্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উলাশী ইউনিয়নের উলাশী পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আপেল প্রতীকের মেম্বর প্রার্থী মিলন ও তার ভাই পিকুলের বাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরবাড়ি। একই গ্রামের মোস্তফার মুদি দোকানেও হামলা চালানো হয়। বিএনপি সমর্থিত নবনির্বাচিত মেম্বর বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে মকর আলী, হাফিজুরসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী এ হামলা চালায়। বাগআঁচড়া ইউনিয়নের পিপড়াগাছি গ্রামের করিম বক্সের ছেলে নৌকার কর্মী মশিয়ার, আব্দুল মালেকের ছেলে আবু কালাম ও তার খালাতো ভাই আবু সালামকে মারপিট করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে আবু কালামের ছেলে সোহেল রানা এলাকা ছাড়া। এছাড়া একই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের বাড়ি, কবিরুল ইসলামের বাড়ি , সালামের বাড়ি, তরিকুল ইসলামের বাড়ি ও সাইদুল ইসলামের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তারা নৌকার প্রার্থী ইলিয়াস কবীর বকুলের পক্ষে কাজ করার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালেকের সমর্থক ছরোয়ার, ইসমাইল ও শান্তির নেতৃত্বে এই তাণ্ডব চালানো হয়। কায়বা ইউনিয়নের বায়কোলা গ্রামে নৌকার কর্মী জাহাঙ্গীর আলম পল্টু ও তার ছেলে আহসান হাবীবকে মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। পাঁচ কায়বা গ্রামের খোরশেদ গাজীর বাড়ি হামলা চালানো হয়। এছাড়া সন্ত্রাসী আমিরুল ও ইয়াছিনের হুমকিতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন পাঁচ কায়বার নৌকার কর্মী রোস্তম আলী। ওই গ্রামের জব্বার আলী ও হুদা মোড়লের পাট কাঠি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

গাজির কায়বা গ্রামের মৃত দুরুদ আলীর ছেলে হাসান আলী জানান, নৌকার পক্ষে থাকায় তার বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক সেজে বিএনপির সন্ত্রাসী সাহেব আলী, জিয়া, কামাল, জাকির, জাহাঙ্গীর, মিজান, মনি মেম্বর ও সবুজসহ আরও কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। হাসান আলীর প্রতিবেশী আব্দুস সালাম জানান, ভোটের রাত থেকে তার মতো অনেকেই বাড়িতে বন্দি জীবন যাপন করছেন। গোগা ইউনিয়নের কালিয়ানী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে হুমায়ন কবীর জানান, নৌকায় ভোট করে তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। বিএনপির সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের মধ্যে ঢুকে সুযোগ বুঝে প্রতিদিন তান্ডবের মাত্রা বাড়াচ্ছে। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতায় সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ আফিল উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি ছুটে যান ও তাদের সাথে কথা বলেন। দিনব্যাপি তিনি বাগআঁচড়া, কায়বা ও গোগা ইউনিয়নের নৌকার কর্মীদের খোঁজ খবর নেন। হামলা-মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আইনী সহায়তার আশ্বাস দেন।

বিভিন্ন পথ সভায় এমপি আফিল উদ্দিন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষের সাথে জামায়াত-বিএনপির লোক ঢুকে গেছে। তারাই এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে কৌশলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের রক্ত ঝরাচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে। হামলাকারীদের মধ্যে অনেক নাশকতা মামলার আসামি রয়েছে। তাদের প্রতিরোধে সকলকে সচেতন হতে হবে। এমপি বলেন, নির্বাচনে ফলাফল যা হবার হয়েছে। এখন কাউকে সহিংসতার সুযোগ গ্রহণের সুযোগ দেয়া যাবেনা। আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীকে জখম ও নির্যাতন করা, মা-বোনদের ওপর হামলা করাসহ কোনো প্রকার সহিংসতা মেনে নেয়া হবেনা। তিনি নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আহবান জানিয়ে সংসদ সদস্য আফিল উদ্দিন বলেন, আপনারা সকলে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপি জামায়াতের ক্যাডাররা আওয়ামী লীগের সাথে মিশে আওয়ামী লীগের কর্মীদের বাড়ি হামলা ও মারপিট করছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদের রক্ত ঝরছে আর লাভবান হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত। বিষয়টি মনে রেখেই আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে সজাগ থাকার আহবান জানানো হয়। এ সময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ উদ দৌলা সরদার অলোক, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল, আসাদুজ্জামান বাবলু, প্রচার সম্পাদক ওহিদুল হক পুটু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক শার্শা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, নবনির্র্বাচিত চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন আহমেদ তোতা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার প্রমুখ।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম জানিয়েছেন, জামায়াত-বিএনপির লোকজন আওয়ামী লীগ সেজে কৌশলে নৌকার কর্মীদের ওপর হামলা, মারপিট ও তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে। পরিবেশ শান্ত রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *