রাজগঞ্জে ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ : কৃষকের মাথায় হাত

সাব্বির হোসেন, যশোর : মনিরামপুর উপজেলার নেংগুড়াহাট এলাকায় রোপা আমন ধানে কারেন্ট পোকা আক্রমণে এলাকার কৃষকদের মাথায় হাত। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই, রাতারাতি এলাকায় ব্যাপক হারে কারেন্ট পোকা লেগে কৃষকের ধান নষ্ট করছে।

ধান ভেঙ্গে চুরে তছনছ করে ফেলেছে কারেন্ট পোকা।

কিছুদিন পরই ধান কেটে, কৃষক ঘরে তুলতে চলছে সে প্রস্তুতি নেবে। কিন্তু এমন সময় রোপা আমন ধানে গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকার আক্রমণে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে ধানের গাছ।

জমির ধান গাছের বিবর্ণ চেহারা দেখে কৃষকের চেহারাও বিবর্ণ হয়ে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। শেষ সময়ে ফসলের ক্ষেত্রে পোকার আক্রমণে কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে।

জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার নেংগুড়াহাট এলাকাকসহ বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করে ক্ষেতে পোকার আক্রমণে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাজারের ওষুধে এই পোকা দমন করতে পারছে না বলে কৃষকরা জানায়। আবার হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় কীটনাশকের সংকটও সৃষ্টি হয়েছে।

এ অবস্থায় পোকা দমনে আলোক ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে, চালুয়াহাটি ইউনিয়ান কৃষি উপসহকারী মারুফুল হক ও হাবিবুর রহমান বলেন, কৃষকদের আশংকা, পোকা দমন করতে না পারলে রোপা আমন উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতি হবে। বলে জানা গেছে, চালুয়াহাটি ইউনিয়ান রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে, ১ হাজার হেক্টর জমিতে। এসব জমির ধান এই পোকার আক্রমনে নষ্ট হচ্ছে।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, কারেন্ট পোকা আক্রমণ করেছে। কিন্তু কৃষকরা বলছেন, ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান বহুগুন বেশী।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়ানসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের জমির ধান ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতিদিনই এই পোকার আক্রমণ বিভিন্ন এলাকার বিলে ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান ভুক্তভোগিরা। কৃষকদের অভিযোগ, জমির ধান নষ্ট হয়ে গেলেও কৃষি বিভাগ কোন সাহায্য করছে না।

এমনকি কোন পরামর্শও দিতে আসেনি কৃষি কর্মকর্তারা। লক্ষণপুর গ্রামের কৃষক, আবু সাঈদ, মোবারক হোসেন, মনতোষ মল্লিক, প্ররোমল্লিকসহ বলেন, কিছুদিন ধরে এই এলাকার ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে।

পোকার আক্রমণে ধান ক্ষেত বাদামি রঙ ধারণ করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষেতের পোকা দমনে যে কীটনাশক ব্যবহার করতে বলছেন, তা চাহিদার তুলনায় বাজারে কম পাওয়া যাচ্ছে। মোবারকপুর গ্রামের কৃষক জামাল, সালাল, আব্দুল ওদুত, রেজাউল ফরিদ, ইউসুফ, আগবার, আইজল, মশিয়ার রহমান, আব্দুর রহিমসহ বলেন, বাদামি গাছফড়িং (বিপিএইচ) বা কারেন্ট পোকা রোপা রোপা আমন ধানগাছে ছড়িয়ে পড়েছে। ধান গাছে থোড় আসার পর পোকার আক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে।

পোকার ডিম থেকে বেরিয়ে আসা বাদামি ফড়িংয়ের বাচ্চা ও পূর্ণ বয়স্ক উভয় পোকা দলবদ্ধভাবে ধান গাছের গোড়ার দিকে অবস্থান করে গাছ থেকে রস খেয়ে ফেলছে। আর এ কারণে গাছ দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। পোকার আক্রমণে ধান গাছ প্রথমে হলুদ ও পরে শুকিয়ে বাদামি রঙ ধারণ করছে। রন্তশাহাপুর গ্রামের কৃষক নাজির, রেজাউল, সিদ্দিকুর রহমানসহ বলেন, হঠাৎ করে ধানে পোকার আক্রমণে আমাদের ফসল উৎপাদন কমে যাবে এতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। নেংগুড়াহাট বাজারের রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবসায়ী রেজোয়ান, সবুজ, ও ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই শত শত কৃষক কারেন্ট পোকা দমনের জন্য কীটনাশক কিনতে আসছেন।

জানা যায়, এই পোকার নাম বাদামি গাছফড়িং (বিপিএইচ)। স্থানীয়ভাবে এই পোকাকে কৃষকরা ‘কারেন্ট পোকা’ বলছেন। কৃষকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এরই মধ্যে এ সম্পর্কিত প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এই পোকা দমনে ধানক্ষেতে আলোক ফাঁদ তৈরির জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পোকা দমনে তৎপর রয়েছেন।

চালুয়াহাটি ইউনিয়ান কৃষি উপ-পরিচালক মারুফুল হক ও হাবিবুর রহমান বলেন, এ বছর রোপা আমনে তিনি প্রকার পোকার আক্রমনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তাৎক্ষনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে উৎপাদনে কোন সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *