যশোরে অন্য লোককে পিতা সাজিয়ে জালিয়াতি : চার ছেলে, জামাই ও দলিল লেখকের বিরুদ্ধে মামলা

যশোর অফিস : যশোরে অন্য লোককে পিতা সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল সৃষ্টির অভিযোগে চার ছেলে, জামাই ও দলিল লেখকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড়ের আনসার আলী বিশ্বাস যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন। বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আহমেদ মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলো, বাদী আনসার আলী বিশ্বাসের ছেলে কেসমত আলী, কওছার আলী, ফিরোজ হোসেন ও হাসান আলী, বাদীর মেয়ের জামাতা খুলনার খানজাহান আলী থানার গিলেতলা গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে জাহিদ আলী এবং যশোরের সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সদর উপজেলার ভাগলপুর-নাটুয়াপাড়া গ্রামের জিল্লুর রহমান।
বাদী মামলায় বলেছেন, আসামিরা পরসম্পদ লোভী, প্রতারক ও জালজালিয়াতি চক্রের সদস্য। উপজেলার ২৪৪ নম্বর বসুন্দিয়া মৌজায় ২ একর ১৩ শতক জমির মধ্যে ১ একর ৫১ শতক জমি আসামিরা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দলির সৃষ্টি করেছে। এসএ এবং আর রেকর্ড সূত্রে আসামিদের জালজালিয়াতি করা জমির মূল মালিক বাদী। ওই জমিতে বাদীর ভাড়া দেয়া বেশ কিছু দোকান ঘর রয়েছে। এর মধ্যে আসামি কেসমত আলী, কাওছার আলী, হাসান আলী এবং ফিরোজ হোসেন বাদীর ছেলে। আসামি জাহিদ আলী বাদীর মেয়ের জামাতা। আর ৬ নম্বর আসামি জিল্লুর রহমান যশোর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক। আসামিরা ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি জালজালিয়াতির মাধ্যমে অন্য লোককে পিতা সাজিয়ে যশোর সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে মোহরার জিল্লুর রহমানের মাধ্যমে বাদীর ১ একর ৫১ শতক জমি হেবা বা দানপত্র দলিল সৃষ্টি করে। ২০১৮ সালের ১০ মে দোকান ঘরের ভাড়ার টাকা আনতে যান। এসময় ভাড়াটিয়ারা বলছে আপনার ছেলে ৪ নম্বর আসামি কওছার আলী বিশ্বাস আমাদের ভাড়া দিতে নিষেধ করেছে। বলেছেন তিনি এই মার্কেটের মালিক। কওছার আলী ওই জমি কেসমত আলী ও ফিরোজের কাছ থেকে দলিল করে নিয়েছেন। ১৬ মে সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে সই মহুরী দলিল তুলে দেখেন এই বছরের ৮৬০/১৭ নম্বর একটি জাল দলিল সৃষ্টি করা হয়েছে। বাদীকে ওই জাল দলিলের দাতা দেখিয়ে গ্রহিতা কেসমত আলী ও ফিরোজ হোসেন। আর দলিলে স্বাক্ষী হাসান আলী ও কওছার আলী এবং সনাক্তকারী মেয়ের জামাতা জাহিদ আলী। আসামিরা ওই জাল দলিল নাম পত্তন করিয়ে নিয়েছে। মেঝে ছেলে কাওছার আলী পরিকল্পনা অনুযায়ি ওই জমি জালিয়াতির মাধ্যমে জাল দলিল সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ গত ১৮ সেপ্টেম্বর জমি বাদীর নামে দলিল করে দিতে বলা হলে তারা অস্বীকার করে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনদের জানিয়ে মিমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আদালতে এই মামলা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *