যশোরের সিমান্ত উপজেলা শার্শায় হঠাৎ বেড়ে গেছে কোভিড উপসর্গের রোগী

বিশেষ প্রতিনিধি : যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সর্দি-কাশি-জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। উপজেলার প্রায় ঘরেই এখন এ ধরনের রোগী। তাঁদের মধ্যে জ্বর নিয়ে ভীতি থাকলেও করোনা পরীক্ষায় তেমন আগ্রহ নেই।

যশোরের সীমান্তবর্তী শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সর্দি কাশি জ্বর গলাব্যাথার মত করোনা উপসর্গের রুগি আশঙ্কাজনক ভাবে বেড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গ্রাম ডাক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

তবে করোনা মহামারির এই সময়ে যে কারণেই সর্দি-কাশি-জ্বর দেখা দিক না কেন, অবহেলা না করে সাবধানতা অবলম্বন ও হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসক-নার্সরা বলছেন এই সব উপসর্গ নিয়ে রুগি আসার পর তাদেরকে কোভিড পরীক্ষার কথা বললেও তারা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। কোভিড টেস্টের অনিহার কারনে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা নিরুপণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রোববার শার্শা উপজেলায় ১৩জনের করোনা পজেটিভ সনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ৪৭৬জন করোনা পজেটিভ রোগী পাওয়া গেছে। যাদেরকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলি বলেন, এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন করোনা টেস্টও করা যাচ্ছে। বন্দর কেন্দ্রিক যাত্রীর কথা ভেবেই ১৮মে করোনা টেস্টের জন্য হাসপাতালে জেপিস্টার মেশিন বসানো হয়েছে। এখন এখানেই র‌্যার্পিড অ্যান্টিজেন্ট ও অ্যান্টি ফিসার টেস্ট করা হচ্ছে। যেটা আগে যশোর বিঞ্জান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে করা হতো। এর পরও অনিহার কারনে সাধারন মানুষকে টেস্টের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। যারা স্বেচ্ছায় টেস্টের জন্য আসছে তাদেরকেই কেবল পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এ সংখ্যাও কম না।

জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে ইদানিং বিপুল সংখ্যক মানুষ আসছেন জানিয়ে বাগআচড়া জোহরা মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডা.হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমাদের কাছে করোনা ভাইরাস চিহৃিতকরনের কিট না থাকায় সর্দি, জ্বর বা গলা ব্যথার উপসর্গ নিয়ে আসা সন্দেহজনক রুগিদেরকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও যশোর ২৫০শয্যা সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

বাগআচড়া সাতমাইলের রুবা ক্লিনিকের পরিচালক ডা. আহসান হাবিব রানা বলেন, সামান্য সর্দি, জ্বর বা গলা ব্যথার উপসর্গ দেখা দিলেই গ্রামের সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করছে কিন্তু তাদের এটা প্রয়োজন নেই। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও ৮০ শতাংশের বেশি রোগীরই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।যাদের শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া বা আগে থেকে বিভিন্ন রোগের জটিলতা রয়েছে,তাদের হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। এই সংখ্যাটা খুবই কম।কাদের পরীক্ষা লাগবে না লাগবে সেটা চিকিৎসকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় ভালো।

ফার্মেসিতে সর্দি-কাশি-জ্বরের ওষুধ বিক্রি ব্যাপক বেড়ে গেছে এমনটি জানিয়ে শার্শা উপজেলা ক্যামিস্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সাধারন সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন উপজেলার বেশির ভাগ বাড়িতেই কেউ না কেউ জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত। তাঁদের বেশির ভাগই বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন।এভাবে অনেকে সুস্থ হয়েও উঠছেন। আবার কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিম্বা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বেনাপোলের পল্লী চিকিৎসক ডা: আবুল হাসেম জানান, বন্দর নগরী বেনাপোলের দিঘীরপাড়, ভবারবেড়, গাজিপুর ও ছোট আঁচড়া গ্রামে অধিকাংশ মানুষ সর্দি-কাশি-জ্বরে ভুগছেন। করোনায় আক্রান্তের ভয়ে কেউ প্রকাশ করছে না। গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছে।

জামতলা বাজারের গ্রাম ডাক্তার আব্দুল খালেক বলেন,এখন যে সব রুগি পাচ্ছি তার সবই জ্বর সর্দি কাশির। অনেকের জ্বর ৮/১০দিনও থাকছে। সামটা গ্রামের শরিফুল ইসলাম (২৬) ও মমতাজ বেগম (৩৮) এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছে। তাদের জ্বর সারাতি না পেরে পরীক্ষানিরিক্ষার জন্যি আজ বড় ডাক্তারের কাছে পাঠাইছি।

যশোরের শার্শা উপজেলায় ১০২ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সংক্রমন ঠেকাতে প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধিরা কঠোর অবস্থানে থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোন প্রভাব নেই। আর সাধারণ মানুষ এসময় জ্বর সর্দি কাশি নিয়েই বাজার ঘাটে ঘুরাঘুরি করছে।এদের মাধ্যমে করোনা সংক্রমনের আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *