মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণ প্রমাণিত, ধর্ষক সনাক্তে ডিএনএ টেস্টের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের শার্শার সেই গৃহবধূকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে আলামত পেয়েছেন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘সেখানে কার কার ‘বীর্য’ রয়েছে তা ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বলা যাচ্ছে না।’
প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে শার্শার লক্ষণপুর এলাকায় ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন গোড়পাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল ও তার সোর্স। টাকা দিলে তার স্বামীর বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় মামলা দেখিয়ে জামিনে সহায়তা করবেন বলে জানান। ফেনসিডিল মামলায় জেলহাজতে থাকা তার স্বামীকে কীভাবে ৫৪ ধারা দেবেন এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। একপর্যায়ে খায়রুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপর এসআই ও কামরুল ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওই নারী যশোর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য এলে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়।
ডা. আরিফ আহমেদ বলেন, ‘গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূর আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাওয়া রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। কিন্তু সেই বীর্য কার বা কাদের তা ডিএনএ টেস্ট ছাড়া বলা যাবে না। সিআইডির মাধ্যমে ডিএনএ টেস্ট করাতে হয়। ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেলেই জানা যাবে এক; নাকি একাধিক ব্যক্তির বীর্য রয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিআইডির পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, আলামত প্রস্তুত রাখতে।’
এদিকে, গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ জনসহ অজ্ঞাত আরেক জনের নামে মামলা করে পুলিশ। যদিও মামলায় এসআই খায়রুলকে আসামি করা হয়নি। যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হকের দাবি, এসআই খায়রুলকে ওই নারীর সামনে হাজির করা হয়েছিল শনাক্তের জন্য। কিন্তু ওই নারী খায়রুলকে শনাক্ত করেনি। তবে ‘তদন্তের স্বার্থে’ এসআই খায়রুলকে প্রত্যাহার করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *