মেডিকেল ভিসায় গত দুই মাসে ভারতে সর্বাধিক যাতায়াত

সানজিদা আক্তার সান্তনা, যশোর অফিস : মেডিকেল ভিসায় চিকিৎসা নিতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে যাত্রী যাতায়াত বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার পর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে চিকিৎসা নিতে ভারতে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ভ্রমণ ভিসা এখনও চালু হয়নি। এর আগে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে শুধু রাষ্ট্রীয় কাজে সীমিত পরিসরে যাতায়াতের সুযোগ ছিল।

২৭ আগস্ট সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেনাপোল দিয়ে মেডিকেল ভিসায় ভারতে গেছেন ৩০৯ জন বাংলাদেশি। গত দুই মাসে এটি সর্বাধিক। এ নিয়ে গত দুই মাসে মেডিকেল ভিসায় ভারত গেলেন দুই হাজার ৬৬৮ বাংলাদেশি।

বাংলাদেশিদের ভারতে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে না হলেও ভারত ফেরত বাংলাদেশিদের বেনাপোল ও যশোরের বিভিন্ন হোটেলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়। বাংলাদেশিরা ভারতে যাওয়ার পর সরাসরি গন্তব্যে যেতে পারছেন। গত রোববার থেকে শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। দুই ডোজ করোনার টিকা নেওয়া, ক্যানসার রোগীরা ভারত থেকে দেশে এলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় না। ভারতে যাওয়ার সময় লাগে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, ভারতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল থেকে দেশটিতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে জটিল রোগে আক্রান্তরা বিপাকে পড়েন। চিকিৎসা করাতে না পেরে অনেক রোগী যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে দুই মাস পর মানবিক দিক বিবেচনায় চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশীদের শর্তসাপেক্ষে ভারত ভ্রমণের সুযোগ দেয় সরকার। ভারত সরকারও ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ভিসা দেয়।

ভারত ভ্রমণে যাওয়ার পথে বাংলাদেশি যাত্রী ধীমান সরকার বলেন, ‘আমার মেয়ে জটিল রোগে আক্রান্ত। তিন মাস আগে একবার ভারতে গিয়েছিলাম চিকিৎসার জন্য। এক মাস পর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় পড়ে যেতে পারিনি। এখন দুই দেশের সরকার রোগীদের কথা চিন্তা করে ভিসা দেওয়ার জন্য একমত হয়েছে। আগের নিয়মে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করানো পরীক্ষার নেগেটিভ সনদসহ বিভিন্ন শর্ত পালনের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। আমার মতো শত শত মানুষ ভারতে যেতে পারছেন।’
যাত্রী ঝুমুর বেগম বলেন, ‘দেশে চিকিৎসাসেবা উন্নত না হওয়ায় করোনাকালেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে হচ্ছে। দেশে চিকিৎসাসেবা উন্নত হলে ভারতে যাওয়ার দরকার হতো না। এতে যেমন খরচ কমতো তেমনি সময়ও বাঁচতো। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতিতে সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব বলেন, বর্তমানে জটিল রোগে আক্রান্তরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনার নেগেটিভ সনদ নিয়ে ভারতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশি যারা ভারত থেকে ফিরছেন, তারা ভারতে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফিরছেন। নিজ দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন না হলেও ভারতে বাংলাদেশি মিশন থেকে আনতে হয়।

তিনি আরও বলেন, গত চার মাসে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন সাত হাজার ৬৬১ জন বাংলাদেশি। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশি ও ভারতীয় মিলে প্রায় পাঁচ হাজার ভারত গেছেন।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *