মামলা হচ্ছে, নজরদারিতে মালিকসহ অনেকেই: পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন নিহতের ঘটনায় মামলা হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটির মালিককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর জানা গেছে সেখানকার অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ ছিল। এছাড়া জরুরি নির্গমন পথে তালা লাগানো ছিল, আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বের হয়ে যেতে চাইলেও দায়িত্বরত নিজস্ব প্রতিবদেক : ঊর্ধ্বতনরা তাদের বের হতে দেননি বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে। শুধু তাই নয় কারখানাটিতে শিশুশ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোরও তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত ৫২ জনের মধ্যে অনেকেই শিশুশ্রমিক বলে জানা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা হচ্ছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০৪, ৩০৪ (ক), ৩০৭, ধারাগুলো আসতে পারে। এসব ধারায় অবহেলাজনিত হত্যার বিষয়গুলো রয়েছে। এরই মধ্যে কারখানা মালিক, ঊর্ধ্বতন দায়িত্বরত কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি হয়েছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, আগুনের ঘটনায় কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি চাইলে মামলা করতে পারেন, না হলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে মামলা হবে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।

তবে ঘটনার পর কারখানাটির মালিক সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেছেন, ‘জীবনে বড় ভুল করেছি ইন্ডাস্ট্রি করে। ইন্ডাস্ট্রি করলে শ্রমিক থাকবে। শ্রমিক থাকলে কাজ হবে। কাজ হলে আগুন লাগতেই পারে। এর দায় কি আমার?’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি গিয়ে তো আগুন লাগিয়ে দেইনি। অথবা আমার কোনো ম্যানেজার আগুন লাগায়নি। শ্রমিকদের অবহেলার কারণেও আগুন লাগতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে সাতটি ভবনে কাজ হয়। কিন্তু আগুন লেগেছে মাত্র একটিতে। পুরো ফ্যাক্টরিতে ৬০০-৭০০ শ্রমিক কাজ করে।’

ওই ভবনে কতজন কাজ করছিল- এমন প্রশ্নে সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেটা এ মুহূর্তে বলা সম্ভব না। কারণ অনেকগুলো ইউনিট বন্ধ ছিল।’

আগুন লাগার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু নিচের তলায় কার্টন রাখা ছিল এবং বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল। তাই হয়তো আগুনের এই ভয়াবহতা। নিচের তলার কার্টন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওপরের তলাগুলোতে বিভিন্ন মেশিন ও যন্ত্রপাতি ছিল। যেহেতু খাবারের আইটেম তৈরি হয়, তাই বহু ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল। সেটা হয়তো আগুনের ব্যাপকতা বাড়িয়েছে।’

মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে যাইনি, তবে আমার লোকজন সেখানে আছে। যারা মারা গেছেন, তারা তো আমারই ছেলে-মেয়ে। আমি খুব ভেঙে পড়েছি। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব আমার ছেলে-মেয়েদের পাশে থাকতে। এটা একটা দুর্ঘটনা। ফ্যাক্টরির সবগুলো ইউনিট চালু ছিল না। লোকজন কম ছিল। তারপরও যারা ছিল, তারা সবাই চেষ্টা করেছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিন্তু পারেনি।’ ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ৮ জুলাই বিকেলে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার প্রথম দিন তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন অর্ধশত শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের ১৮টি ইউনিট ২০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর গত ৯ জুলাই সকালে ওই ভবনের চারতলা থেকে ২৬ নারীসহ ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ জনে। ২৯ ঘণ্টা পর ৯ জুলাই রাতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *