মাগুরায় আজিজুর হত্যার ঘাতক আশরাফ আটক ; খণ্ডিত মাথা ও পা উদ্ধার

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরে কালুকান্দি গ্রামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আজিজুর রহমানের (৩০) বিছিন্ন মাথা ও একটি পা মাগুরা সদরের জগদল এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে।

র‌্যাবের খুলনার অধিনায়ক লে. কর্নেল রওশনুল ফিরোজের নের্তৃত্বে র‌্যাব-৬ এর একটি দল সোমবার সন্ধ্যায় ওই এলাকার একটি কালভার্টের ভেতর থেকে এগুলো উদ্ধার করে। রওশনুল ফিরোজ জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল আসামি আশরাফ হোসেনকে সোমবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে এ বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিলে সেই মোতাবেক জগদলের ওই এলাকা থেকে নিহত আজিজুরের মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, আজিজুর রহমান (৩০) মাগুরা সদর উপজেলার সংকোচখালি গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে। ছোটবেলায় তার বাবা মা মারার যাওয়ার পর থেকেই বিনোদপুর ইউনিয়নের কালুকান্দি গ্রামে তার নানা আবুল কাশেমের বাড়িতে থেকে বড় হয়েছে। তিনি ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। গত ৫ জুন সকালে আজিজুর বাসা থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে ৬ জুন সকালে কালুকান্দি গ্রামের মতিয়ার মোল্যার পুকুরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত একটি বস্তা দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বস্তাটি উদ্ধার করলে তার ভিতর মাথা ও একটি পা বিহীন লাশ পাওয়া যায়। পরে লাশের পরিহিত পোষাক দেখে এটি আজিজুর রহমানের মরদেহ বলে দাবি করেন তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। ওই দিন হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মহম্মদপুর থানায় হত্যা ও আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। পরে আসামি গ্রেপ্তারসহ বিচ্ছিন্ন মাথা ও পায়ের সন্ধানে নামে যশোর র‌্যাব। পাশাপাশি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের শার্শা থেকে সোমবার দুপুরে আজিজুরের খুনী আশরাফকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় সে র‌্যাবের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জগদলের ওই এলাকা থেকে নিহত আজিজুরের দেহের খণ্ডিত মাথা ও একটি পা উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব কর্মকর্তা রওশনুল ফিরোজ এ বিষয়ে আরও জানান, আশরাফ সদর উপজেলার মালিকগ্রামের আহম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। মাগুরা শহরের বেলতলায় তার হোমিওপ্যাথির ব্যবসা আছে। পাশাপাশি সে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং-এমএলএম ব্যবসা করে। এই ব্যবসার সূত্রেই আজিজুরের সাথে তার সম্পর্ক। আশরাফ আজিজুরের কাছে ব্যবসায়ীক ৩ হাজার টাকা পেত। কিন্তু আজিজুর সেটি ৫ শত টাকা বলে দাবি করছিল। এই বিরোধের জের ধরেই ৫ জুন আশরাফ আজিজুরকে নিজ হোমিও দোকানে ডেকে এনে হত্যা করে। পরে দেহ থেকে মাথা ও পা খণ্ডিত করে জগদলের ওই কালভার্টে ফেলে। দেহের বাকি অংশ বস্তাবন্দি করে আজিজুরের মামা বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুরের কালুকান্দি একটি পুকুরে ফেলে সে আত্মগোপন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *